বাংলাদেশের রথ ও রথের অলংকরণ
Abstract
রথ হচ্ছে চক্রযুক্ত যান বা শকট। কিংবা বলা যায় অশ্বাদি-বাহিত প্রাচীন যান। কিংবা হিন্দু দেবতা জগন্নাথের যান । রথযাত্রা বলতে সাধারণত আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে হিন্দু উৎসবকেই বুঝায় । রথ টানা স্মরণ করিয়ে দেয় রথযাত্রায় ভক্তদের রজ্জুবদ্ধ রথ টানার উৎসবকে। সুতরাং রথের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের যেমন গভীর সম্পর্ক রয়েছে তেমনি রয়েছে ঐতিহ্যের সম্পর্ক। ঐতিহ্যবাহী এই রথ নির্মাণে সূত্রধর শিল্পীরা অসামান্য অবদান রেখেছেন। দেবালয় এবং মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে যে- কারিগরি দক্ষতা, যে-নিপুণতা এবং যে-ধৈর্যের প্রয়োজন হতো রথ নির্মাণের ক্ষেত্রেও সূত্রধর শিল্পীরা সেই দক্ষতা, নিপুণতা এবং ধৈর্যের প্রমাণ রেখেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রথ টানার উৎসব হতো, কিন্তু দেশবিভাগের পর ব্যাপক হারে হিন্দু সম্প্রদায় ভারতে চলে যাওয়ায় এবং জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় রথ-উৎসব এবং রথ তৈরিতে ভাটা পড়ে। রথ নির্মাণে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে তা ব্যয় করা সম্ভব হতো না। ফলে রাজা মহারাজা এবং জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হতো। রাজা, জমিদার কিংবা বিত্তশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় যে রথ তৈরি হতো তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার এক আখড়ার মহন্ত মস্তরামজী ১৭৪২ খিস্ট্রাব্দে নাটোরের রাজা রামকান্ত রায়ের অর্থানুকূল্যে ৩২ চাকা এবং ১৭ চূড়াযুক্ত একটি রথ নির্মাণ করেছিলেন'। রাজা রামকান্ত রায় রাজকার্য পরিচালনার চেয়ে ধর্মকর্মের প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী স্বনামধন্যা রানী ভবানীও বহু মন্দির নির্মাণ এবং ধর্মীয় কাজে সাহায্য করেছিলেন বলে সুখ্যাতি রয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.