জীবনানন্দ দাশ : তিমির হননে
Abstract
বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) এসেছেন পূর্বসূরি কবিদের হাত ধরে। তাঁর কবি-জীবনের প্রথম পর্যায়ে 'বারা পালক'-এ (১৩৩৪)—যদিও আছেন সত্যেন্দ্রনাথ-মোহিতলাল মূলতঃ ছন্দ-প্রতিধ্বনিতে, তবু প্রধানতঃ ঐ কালে তাঁর বক্তব্যে যে-আশাবাদ এবং শব্দ-ব্যবহারে যে মিশ্র সংস্কৃতির বাস্তবতার স্বীকৃতি, সেখানে বিশেষভাবে উপস্থিত প্রেমিক ও মানবতাবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। প্রস্তুতি-পর্বে নানা স্তরের সাধনার স্বপক্ষে ডিলান টমাস এক সাক্ষাৎকারে (১৯৫১) বলেছিলেন : I tried my callow hand at almost every poetical form. How could I learn the tricks of a trade unless I tried to do them myself? I learned that the bad tricks come easily; and the good ones, which help you to say what you think you wish to say in the most meaningful, moving way. I am still learning. এই নানা সুরের সাধনাই একজন প্রকৃত কবির প্রস্তুতি পর্বের নীরব কাজ। সংস্কৃত সাহিত্য, বৈষ্ণব কবিতা, বাউল গান, বিহারীলাল ও মধুসূদনের নিকট সুস্পষ্ট খাণ রবীন্দ্রনাথকে ভিত্তি দিয়েছে আত্মানুসন্ধানের এবং স্বকণ্ঠের সন্ধান পেয়েও রবীন্দ্রনাথ আজীবন নিজেকে পরিবর্তন করে গেছেন। তাই মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অসামান্য তারুণ্যের দীপ্তি ছিল তাঁর; বার্ধক্য দেহকে নিয়েছে, কিন্তু কবিকণ্ঠে স্পর্শ করেনি জরা। জীবনানন্দ দাশের এই নীরব কাজের পর্যার পরিচিহ্নিত তাঁর ‘ঝরা পালক'। পূর্বসূরির ঋণ অকপট জড়িয়ে আছে এর স্তবকগুচ্ছে, চরণে চরণে। যেটা লক্ষণীয় তা হচ্ছে, স্বরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্ত ব্যবহারে কবির অনায়াস দক্ষতা এবং আরবী-ফারসী শব্দ-ব্যবহারের বিশিষ্ট প্রবণতা৷ উল্লেখ করা প্রয়োজন, মোহিতলাল ও সত্যেন্দ্রনাথের কবিতায় আরবী-ফারসী শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে মুসলিম-প্রসঙ্গ উপস্থাপন সূত্রে। এ-দিক দিয়ে তাঁর৷ ভারতচন্দ্রানুসারী। ভারতচন্দ্রই প্রথম মুসলিম-প্রসঙ্গ বর্ণনায় সচেতনভাবে আরবী-ফারসী শব্দ ব্যবহার করেন এবং কৈফিয়ৎ দেন: “যে হৌক সে হৌক ভাষা কাব্য রস লয়ে”। নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা'র (১৯২২) কবিতায়ও মুসলিম-প্রসঙ্গে আরবী-ফারসী শব্দ ও হিন্দু-প্রসঙ্গে সংস্কৃত শব্দের প্রয়োগবাহুল্য আছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.