সাংবাদিকতায় নজরুল
Abstract
বৈচিত্র্যময় প্রবণতায় পরিপূর্ণ কবি নজরুলের জীবন সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, সাংবাদিক, সৈনিক, রাজনীতিক ইত্যাদি ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি কখনো হয়ে উঠেছেন বিদ্রোহী, কখনো বিপ্লবী, কখনো বা সাম্যবাদী। কবি জীবনের সবচেয়ে কম আলোচিত অধ্যায় তাঁর সাংবাদিক জীবনের ওপর আলোকপাত করাই বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের উদ্দেশ্য। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কখনো সম্পাদক, কখনো পরিচালক, কখনো বা শুধু লেখক সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯২০ সালে মূলত সম্পাদক হিসেবেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূচনা। সংবাদপত্র জগতে একেবারে নবীন হিসাবে তিনি সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ-এ কাজ করা শুরু করেন। ১৯২০ সালের ১২ জুলাই থেকে এ পত্রিকা প্রকাশিত হয় (রয়াল সাইজ ২০′′×২৬)। এর প্রকাশক ছিলেন এ.কে ফজলুল হক আর প্রকাশকের ঠিকানা ছিল ৬নং টার্নার স্ট্রীটের বাড়ির নিচতলা। তিনি কীভাবে সাংবাদিকতায় এলেন তা একটু বিস্তারিতভাবে বলা দরকার। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রানীগঞ্জের শিয়ারশোল রাজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র তিনি ৪৯ নম্বর বেঙ্গলি রেজিমেন্টে যোগদান করেন ১৯১৭ সালে । সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় তাঁর সাথে তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক ও ম্যানেজার মুজফ্ফর আমদের চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচয় হয়। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার ১৯১৯ সালের জুলাই-আগস্ট সংখ্যায় নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'মুক্তি' মুজফ্ফর আমদই ছাপানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ক্রমে উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুজফ্ফর আহমদের বিপ্লবী ও সাম্যবাদী চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা তরুণ কবিকে প্রভাবিত করে। ফলে সাংবাদিক নজরুলের আবির্ভাব ঘটে। বিশ্বযুদ্ধ শেষে ৪৯ নম্বর বেঙ্গলি রেজিমেন্ট পুরোপুরি ভেঙে গেলে ১৯২০ সালের মার্চ মাসে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ ও বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.