পদ্মাবতী কাব্যে আলাওয়াল
Keywords:
Abstract
মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে মুসলমানের অবদান বিস্তারে ও ব্যাপকতায়, সৃষ্টি-প্রাচুর্যে ও জনপ্রিয়তায় অন্যান্য প্রসিদ্ধ কাব্যের অপেক্ষা কোন অংশে কম নয়। বরং রোমান্টিক কাব্যসৃষ্টিতে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিগণই পথ প্রদর্শক। সেই যুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য মুসলমানদের হাতে এক নবরূপ লাভ করিয়াছিল। আরবী, ফারসী ও হিন্দী সাহিত্যের বিষয়বস্তু এবং ভাব-বৈচিত্র অনুকরণ করিয়া বাংলার মুসলমান কবিরা এক নবযুগের সূচনা করিয়াছিলেন।
লৌকিক ধর্ম ও দেবদেবীর অত্যাচারে মধ্যযুগের বাঙ্গালী জীবন আড়ষ্ট হইয়া উঠিয়াছিল। মানুষের হাসি কান্না সুখ দুঃখ যে দেবতার কাছে ব্যর্থ হইয়া ফিরিয়া আসে, মানুষ সে দেবতারই হাতের পুতুল রূপে চালিত হইয়াছে। একটা মোহময়তায় আচ্ছন্ন রহিয়াছে তাহার বুদ্ধি ও বিবেক। হিংসাপরায়ণ হীণমনোবৃত্তিসম্পন্ন এই চতুর দেবদেবীর রোষকষায়িত দৃষ্টির বাহিরে যে মুক্ত জীবন প্রতীক্ষা করিতেছিল তাহারই সন্ধান দেন সর্বপ্রথম মুসলমান কবিগণ। বিরাট পুঁথিসাহিত্যের কথা ছাড়িয়া দিলেও জীবনী ও অনুবাদ-মূলক কাব্য রচনায় ও মুসলিম কবিগণ কম অগ্রণী ছিলেননা। মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, মোহম্মদ খান, সাবিরিদ খান, শাহ্ গরীবউল্লাহ্, সৈয়দ হামযা, কাজী দৌলত, আলাওয়াল, হায়াতমামুদ, শুকুরমামুদ প্রভৃতি কবিগণের নাম প্রথম শ্রেণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
Downloads
Downloads