ফেরারী ফৌজ ও রাইফেল : অগ্নিমন্ত্রের দীক্ষায় জেগে ওঠা সশস্ত্র গণদেবতা
Abstract
ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা মঞ্চনাটক ছিল প্রধানত সখের বিষয়, অবসরের আমোদ—শ্রম ও স্বেদ- সম্পর্কহীন ধনিক শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতায় উদ্ভূত, প্রতিপালিত ও বর্ধিত; কিন্তু শতাব্দীর শেষপ্রান্তে তা 'থিয়েটার' নাম ধারণ করে পেশাদারি ও ব্যবসায়িক চারিত্র্য অর্জন করে। ব্যবসায়ীদের করায়ত্ত ঐ- নাট্যপরিমণ্ডলে নিঃশেষিত হয়েছে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১১) সমগ্র নাট্যপ্রতিভা; থিয়েটার- কারবারিদের প্রাকৃতরুচি এবং অর্বাচীন দর্শকদের দাবির কাছে নিজেদের প্রতিভার অকাল মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে বেদনাতুর হয়েছেন অমৃতলাল বসু (১৮৫৩-১৯২৯), ক্ষিরোদপ্রসাদ (১৮৬৩-১৯২৭), অতুলকৃষ্ণ প্রমুখ সম্ভাবনাময় নাট্যকার-অভিনেতা। সাধারণ রঙ্গমঞ্চে তখন দর্শক সমাগমের কোন কমতি ছিল না এবং ব্যবসায়িক দিক দিয়ে থিয়েটার ব্যবসা লাভজনক বলেই বিবেচিত হতো। বলা বাহুল্য, ঐ-সময়ে 'থিয়েটার'-এর প্রধান দর্শক ছিল সামন্ততন্ত্রের উচ্ছিষ্টভোগী অবক্ষয়িত, রুচিবর্জিত খেউর আর আখড়াইয়ের সমঝদার 'বাবু সমাজ’। সাধারণ রঙ্গমঞ্চের সমকালীন দুর্দশা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ সচেতন ছিলেন এবং সেখানে ‘আশাপ্রদ' কোন সুস্থতা তিনি প্রত্যাশা করেননি; কারণ, 'রসবোধ ও কলাজ্ঞান আছে' এমন লোকের প্রাণ সেখানে 'কিছুতেই তিষ্ঠুতে পারবে না'। প্রচলিত রঙ্গমঞ্চের প্রতি তিনি এতটাই বীতশ্রদ্ধ ছিলেন যে রুচিশীল নাটক মঞ্চায়নের জন্য তিনি একটি স্বতন্ত্র রঙ্গমঞ্চের প্রস্তাব করেন যা হবে 'যাঁরা ললিতকলার সূক্ষ্ম সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান—তাঁদের জন্যে’। এর আগেই, বিশ শতকের শুরুতে (পৌষ ১৩০৯) সাধারণ রঙ্গমঞ্চের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করে ‘রঙ্গমঞ্চ' প্রবন্ধে তিনি দেখিয়েছিলেন 'লক্ষ্মীর পেঁচা' 'সরস্বতী পদ্ম' আচ্ছন্ন করে কীভাবে আধুনিক থিয়েটারকে 'ভারাক্রান্ত একটা স্ফীত পদার্থে' পরিণত করেছে। ফলে পুঁজিলগ্নিকারীদের বৈষয়িকবুদ্ধি, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সুরুচি-বিকৃতি, সম্ভাবনা ও সংকটের সকল প্রভাব ও প্রতিপত্তি আত্মস্থ করে কেটেছে বাংলা নাটকের প্রথম পঞ্চাশ বছর।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.