সমর সেনের কবিতায় নৈঃসঙ্গ্যচেতনা
Abstract
বিশ শতকের চল্লিশের কাব্যধারায় একটি বিশিষ্ট ও উজ্জ্বল নাম সমর সেন (১৯১৬-১৯৮৭) তিরিশের কাব্যস্রোত চল্লিশে এসে যাঁদের সাধনায় নতুন মাত্রা অর্জন করে, সমর সেন তাঁদের অন্যতম। রোমান্টিকতার বিপরীতে মার্কসিস্ট চেতনার কবি হিশেবে সদৰ্প ঘোষণা দিয়ে বাংলা কাব্যে তাঁর দীপ্র আবির্ভাব। মার্কসবাদী কবি হিশেবে নিজেকে নির্মাণ করার অক্লান্ত সাধনা সত্ত্বেও কলোনিশাসন, বাবুসংস্কৃতির উত্তরাধিকার, কিম্ভূতকিমাকার নাগরিক জীবন এবং বৈশ্বিক বিপন্নতায় তাঁর কবিতার শরীরে ও সত্তায় লেগেছে নিঃসঙ্গতা নির্বেদ নৈরাশ্য ও অনন্বয়ের অন্তহীন ছাপ। তবে একই সঙ্গে সেখানে আছে নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তির আকুল আকাঙ্ক্ষা। সমর সেনের কবিতায় প্রতিফলিত নৈঃসঙ্গ্যচেতনার রূপ-রূপান্তর ও নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তির ব্যাকুল বাসনার ভাষাচিত্র নির্মাণই বর্তমান আলোচনার অন্বিষ্ট বিষয়। তবে সমর সেনের কবিতায় অনুপ্রবেশের পূর্বে নৈঃসঙ্গ্যচেতনা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষ্য উপস্থাপনা এখানে আবশ্যক বিবেচনা করি। সমাজসংগঠন এবং ব্যক্তিসংবেদনার আন্তঃসম্পর্কের নিয়ত দ্বৈরথে মানবচৈতন্যে উপ্ত হয় নৈঃসঙ্গ্যের প্রাণবীজ। মানবচিত্তে নৈঃসঙ্গ্যচেতনা সৃষ্টির পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আধুনিক মানুষের alienation বা বিচ্ছিন্নতাবোধ। মানুষ সামাজিক জীব—এরিস্টটলের এই প্রত্যয় সর্বাংশে সত্য হলেও, অষ্টাদশ শতাব্দী থেকেই সামাজিক সংগতিশূন্যতা এবং কালস্রোতের বৈনাশিকতায় ক্রমেই ছিন্ন হয়ে গেছে সমাজের সঙ্গে ব্যক্তি-মানুষের অন্বয় ও সংযুক্তির সনাতন বন্ধন। বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রবল রূপ ধারণ করেছে মানুষের এই অনন্বয় বা বিচ্ছিন্নতা। নৈঃসঙ্গ্যচেতনা হচ্ছে এই অনন্বয় বা বিচ্ছিন্নতারই অনিবার্য ফল।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.