আহমদ শরীফ সম্পাদিত পুথিতে আরবি উর্দু ও ফারসি শব্দ
Abstract
একথা মোটামুটি সর্বজনবিদিত যে, হস্তলিখিত প্রাচীন পুথি আমাদের সাহিত্যের সকল শাখার ধারক ও বাহক। অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এধারা অব্যাহত ছিল বললে অত্যুক্তি হয় না। ভারতবর্ষে মুদ্রণ যন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পুথির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বটে, তবে সম্পাদনা ও মুদ্রণের মাধ্যমে তার ভাবসম্ভার নতুন রূপে উদ্ভাসিত হয় গ্রন্থাকারে। স্বনামখ্যাত অধ্যাপক আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯) এর কর্মজীবনের এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যায়। এই নিযুক্তি প্রসঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ে অধ্যাপক শরীফ নিজেই বলেছেন, মোটামুটিভাবে ১৮৯৪ সন থেকে সাহিত্যবিশারদ প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহে, সংরক্ষণে, পরিচায়নে এবং সম্পাদনায় জীবনের শেষ মুহূর্ত অবধি ব্যয় করেছেন। তাঁর সেই নিষ্ঠার সাধনার প্রভাব পড়েছিল হয়তো আমার অবচেতন মনেই। তাই তিনি যখন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আগ্রহে শেষ জীবনে তাঁর সমস্ত পুঁথির সম্ভার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিক্রি করতে নয়, নিঃশর্তে দানই করতে চাইলেন—আমি তখন পাকিস্তান রেডিও-র ঢাকা স্টেশনে কাজ করি, এবং আমার নিজের আগ্রহেই সাহিত্যবিশারদকে জানাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুঁথি পড়ুয়া কোন লোক নেই। কাজেই তাঁরা যদি আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে শিক্ষক করে নেন, তাহলে পুঁথি পড়ার এবং চর্চার একজন লোক মিলবে। সে সময়ে (১৯৪৯-৫০) কোন পদ বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি করা সরকারি অনুমতি সাপেক্ষ ছিল। সেজন্য আমাকে তক্ষুণি লেকচারার না করে কিছু কালের জন্য রিসার্চ এ্যাসিস্ট্যান্ট বা গবেষণা সহকারী রূপে নিযুক্ত করতে রাজি হলেন। আমিও সাহিত্যবিশারদের অসমাপ্ত কাজে সমাপ্তি দানের বিবেকী দায়িত্ববোধে এবং ভবিষ্যতে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগের আগ্রহে আর পদোন্নতির আশ্বাস পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলাম ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৫০-এ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.