আহমদ শরীফের বঙ্কিম-বীক্ষা
Abstract
সত্য উচ্চারণে নির্ভীকতাই আহমদ শরীফের (১৯২১-১৯৯৯) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল করে তুলেছে। তাঁর মুক্তবুদ্ধি, জীবনদৃষ্টির স্বচ্ছতা, সমাজবিশ্লেষণে নিম্নবর্গের প্রতি সহানুভূতি প্রভৃতি তাঁর রচনাকে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত করেছে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও তার সমাজতত্ত্ব বিশ্লেষণে তিনি এক অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাঁর সাহিত্যসাধনার অধিকাংশ কাল জুড়েই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে তিনি একাগ্র ধ্যানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই অখণ্ড মনোযোগের ফলেই তাঁর বিশ্লেষণে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য বিচিত্র মাত্রায় উদ্ভাসিত হয়েছে। গবেষক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে এ কারণেই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এ ছাড়া তাঁর রচনার একটি বিশিষ্ট স্থান জুড়ে আছে দেশভাবনা, জাতিচিন্তা, সংস্কৃতিচেতনা, দর্শন ও ইতিহাসবোধ এবং আধুনিককালের সাহিত্য মূল্যায়ন। এই মূল্যায়নের অংশীভূত হয়েছেন মাইকেল মধূসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১), কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) প্রমুখ। তবে স্বীকার্য যে, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য বিবেচনায় তাঁর সাফল্য যতটা চূড়াস্পর্শী, আধুনিক বাংলা সাহিত্য বিচারে ততটা সন্দেহাতীত বা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। আধুনিক সাহিত্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কখনও কখনও তিনি নিজের বক্তব্যই পরবর্তীকালে খণ্ডন করেছেন, কখনও কখনও একেবারেই বিপরীত মত পোষণ করেছেন, কখনও কখনও তাঁর পূর্ব ও পরবর্তী মতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষিত হয় নি। তবে এই পারম্পর্যহীনতার মধ্যেও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য হলো, নিজ মত প্রকাশে তাঁর সততা ও স্বতঃস্ফূর্ততা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.