আহমদ শরীফের ব্যাকরণ-চর্চা
Abstract
আহমদ শরীফের পরিচিতি পাকিস্তানী আমলে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিদের রচিত বিভিন্ন কাব্যের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় আর বাংলাদেশ সময়ে একজন ব্যতিক্রমী ও তীর্যক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ভিন্নমতাবলম্বী বা ডিসিডেন্টরূপে। কলকাতা থেকে ইংরেজ আমলে প্রকাশিত 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস'গুলিতে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদান ছিল উপেক্ষিত, ফলে বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক ইতিহাস ছিল না। বাংলা সাহিত্যের পূর্ণ ইতিহাস রচনায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ এনামুল হকের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে আহমদ শরীফের নাম যুক্ত মধ্যযুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার জন্যে। প্রসঙ্গক্রমে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত নিম্নোক্ত রচনাবলি স্মর্তব্য–দৌলত উজীর বাহরাম খানের লায়লী মজনু (১৯৫৭), মধ্যযুগের পুঁথি পরিচিতি (১৯৫৮), আলাওলের তোহফা (১৯৫৮), মুহম্মদ খানের সত্যকলি বিবাদ সংবাদ (১৯৫৯), মুহম্মদ কবীরের মধুমালতী (১৯৫৯), মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১), মধ্যযুগের কাব্য সংগ্ৰহ (১৯৬২), জয়নুদ্দীনের রসূল বিজয় (১৯৬৪), মুজাম্মিলের নীতিশাস্ত্রবার্তা (১৯৬৫), পুঁথির ফসল (১৯৬৬), শা' বারিদখান গ্রন্থাবলী (১৯৬৬), মধ্যযুগের রাগ তালনামা (১৯৬৭), কোরেশী মাগন বিরচিত চন্দ্রাবতী (১৯৬৭), বাঙলার সুফী সাহিত্য (১৯৬৯), শেখ পরাণের নসিহতনামা (১৯৬৯), সৈয়দ সুলতান : তাঁর গ্রন্থাবলি ও তাঁর যুগ (১৯৭২), দোনা গাজী চৌধুরীর সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামাল (১৯৭৫), সওয়াল সাহিত্য (১৯৭৬), আলাওলের সিকান্দরনামা (১৯৭৭), সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ (১৯৭৮), ও রসূল চরিত (১৯৭৮), শেখ মুত্তালিবের কিফায়তুল মুসল্লিন ও কায়দানী কিতাব (১৯৭৮), বাউল কবি ফুলবাসউদ্দীন ও নসরুদ্দীনের পদাবলী (১৯৮৮)। আহমদ শরীফের ঐসব পুঁথির পাণ্ডুলিপি পাঠ, সংকলন ও সম্পাদনা ছিল অত্যন্ত আয়াসসাধ্য, যান্ত্রিক অথচ বিশেষ প্রয়োজনীয়, সেজন্যে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস চর্চাকারীগণ তাঁর প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞ থাকবেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.