সত্যের দ্বিভাজন : দ্বিভাজনের সত্য ঈশ্বরচন্দ্রের Notes on the Sanskrit College : একটি মন্তব্য

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v45i1.5
Crossmark

Authors

Abstract

ঔপনিবেশিক শাসনের অনিবার্য প্রয়োজনেই ভারতবর্ষীয় শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজদের হস্তক্ষেপ ঘটেছিল—এ কথা উচ্চারিত হতে হতে আজ প্রায় বর্ণহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধৃতি-ক্লেশে একইভাবে ক্লিষ্ট লর্ড মেকলের ১৮৩৫ সালের সেই বিখ্যাত উক্তিটি যাতে বলিষ্ঠ বাক-ভঙ্গিমায় প্রথমবারের মতো মূর্ত হয়ে উঠেছিল এক mimic Englishman "Indian in blood and colour, but English in taste, in opinions in morals and intellect"। এমন নকল ইংরেজি তৈরী করবার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিপ্রসূত পাশ্চাত্য শিক্ষা নয়, সাহিত্য ও কৃষ্টিনির্ভর ইংরেজি শিক্ষার সুপারিশ মেকলে কেন করেছিলেন তারও উত্তর আমাদের অজানা নয়। তবু যেহেতু উপমহাদেশের মনোজগৎ এখনো ঔপনিবেশিকতামুক্ত হতে পারেনি, সেহেতু আর একবার আমরা পুরনো প্রশ্নের স্মারণিক উত্তর জেনে নিতে পারি। ঔপনিবেশিকতার সর্বগ্রাসী ক্ষুধাকে মানবতাবাদ আর রোমান্টিসিজম্-এর মুখোশ পরিয়ে উপস্থাপন করতে পারলে সাম্রাজ্য-বিস্তারের উদ্দেশ্য নির্বিঘ্নে সাধিত হতে পারে—এই কথাটি অনুভব করেছিলেন তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ধূর্ত লর্ড মেকলে৷ মানবতাবাদ আর রোমান্টিসিজম্-এর জন্য সাহিত্যের চেয়ে বড়ো ধাত্রী আর কি হতে পারে! অতএব ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ চাই। তাতে করে ভারতীয় প্রজাকুল তাদের শ্বেতাঙ্গ রাজার সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা অনুধাবন করতে পারবে, বুঝতে পারবে বৃটিশ এদেশে রাজত্ব করতে আসেনি, এসেছে সাংস্কৃতিক মিশনারীর জ্যোতির্ময় মিশন নিয়ে, অন্ধকার ভারতবর্ষের সভ্যতার বিচ্ছুরণ ঘটাতে। এহেন নির্মোহ হিসাব-নিকাশের ইঙ্গিতেই মেকলে-পর্বে এসে ইতঃপূর্বেকার বৃটিশ প্রাচ্যবাদিতা (British Orientalism) প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। কারণ বৃটিশ প্রাচ্যবাদিতায় ভারতীয় দর্শন ও ধর্মের আসনটি অবজ্ঞা কিংবা উপেক্ষার ছিল না, ছিল অনুরাগ ও শ্রদ্ধার। একই কারণে খ্রীস্টান মিশনারীদের হাতে সাম্রাজ্যবিস্তারের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করতে রাজি ছিলেন না মেকলেরা। কারণ তাতে ধর্মান্তরের হাত ধরে নিজ ঘরের ধর্মীয় কোন্দল হীরকতুল্য উপনিবেশে প্রবেশ করে বিপত্তি ঘটাতে পারে। শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী নিয়ে যে-শ্রেণীটিকে আমরা Intelligentsia বলি, যে-শ্রেণী ইতিহাসের সব ক্রান্তিকালে সমাজের পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকে, সেই শ্রেণীটিকেই মেকলে তার শিক্ষা-প্রকল্পের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। ইংরেজি শিল্প-সাহিত্য-দর্শনের আলোকে আলোকিত ভারতীয় শিল্পী-সাহিত্যিক- বুদ্ধিজীবী বৃটিশ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আমৃত্যু অনুগত থেকে ভারতের অবশিষ্ট প্রজাকুলকে রাজার প্রদর্শিত পথে হাঁটতে শেখাবেন—এ-ই ছিল মেকলের প্রত্যাশা। এ-প্রত্যাশা যে বহুলাংশে পূর্ণ হয়েছিল—উপনিবেশ-উত্তর যুগেও প্রাগুক্ত ঐতিহ্যের সদম্ভ বিচরণ দেখে আমরা তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারি।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

2001-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

সত্যের দ্বিভাজন : দ্বিভাজনের সত্য ঈশ্বরচন্দ্রের Notes on the Sanskrit College : একটি মন্তব্য . (2001). সাহিত্য পত্রিকা, 45(1), ১১৬-১২৫. https://doi.org/10.62328/sp.v45i1.5

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%