উনিশ শতকের ফারছী-বাঙালায় লেখা মুসলিম গদ্যের নমুনা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v45i2.1
Crossmark

Authors

Abstract

সাম্প্রতিক গবেষণা ও তথ্য-অনুসন্ধান থেকে জানা যায় যে, বাঙালা ভাষার যে-ধারা আদি মধ্যযুগ থেকে ১৮০০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, তার নাম— ফারছী-বাঙালা। ঐ সময়ে এ-ফারছী-বাঙালাই ছিল জনগণের বাঙালা বা 'গণমুখী বাঙালা'। মোগল আমলে ফারছী-বাঙালার চর্চা হ'ত সরকারী অফিস-আদালতে এবং জনগণের দৈনন্দিন কাজে ও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে। প্রাদেশিক ভাষা হিসেবে এ-বাঙালার চর্চা মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই ক'রতেন। এক-ই কাল- প্রবাহে হিন্দু সামন্ত-পুরোহিত শ্রেণীর মধ্যে সংস্কৃত-বাঙালারও একটি ক্ষীণ ধারা চালু ছিল। তবে তাকে তারা 'বাঙালা ভাষা' বা 'বঙ্গ-ভাষা' বলতেন না; বলতেন 'ভাষা'। সে-ভাষাকে সংস্কৃতনিষ্ঠ ব্রাহ্মণগণ সুনজরে দেখতেন না। গণমুখী বাঙালা ভাষার বিপরীতে ক্ষীণ ধারায় বহমান উক্ত ‘পণ্ডিতী-বাঙালা' ও মুসলিম-অমুসলিম উচ্চশ্রেণীর মধ্যে বিশেষতঃ বিভিন্ন রাজ সভায় চালু ছিল। কারণ মুসলমানদের কোন বিশেষ ভাষার প্রতি বিদ্বেষ ছিল না। তা সংস্কৃতই হোক আর বাঙালাই হোক অথবা হোক আরবী-ফারছী। ফারছী-বাঙালার এই গণমুখী রূপটির ধারা ১৮০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের পণ্ডিতদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তী এক শ' বছরে বাঙালার শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ফারছী-বাঙালাকে ধীরে ধীরে দৃষ্টির অন্তরালে পাঠিয়ে দেয়। আর ‘পণ্ডিতী-বাঙালা' “সাধু ভাষা” নামধারণ করে সারা জাতির ওপর চেপে বসে। পরবর্তী এক শ' বছরে এই ভাষা-বিসর্জন-কর্ম এমন পরিপূর্ণভাবে সাফল্য লাভ করে যে, অদ্যাবধি বহু চেষ্টা ক'রেও সতের-আঠারো শতকে লিখিত মুসলমানের লেখা কোন মুসলিম গদ্যের নমুনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেবল সতের-আঠারো শতক নয়, উনিশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে মুসলিম লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিকদের যে-সব গদ্য রচনার সামান্য নমুনা মেলে; সেগুলোর মধ্যেও ফারছী-বাঙালায় লেখা কোন গদ্য রচনার নজীর অনুপস্থিত।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

2002-02-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

উনিশ শতকের ফারছী-বাঙালায় লেখা মুসলিম গদ্যের নমুনা . (2002). সাহিত্য পত্রিকা, 45(2), ৫-৫৫. https://doi.org/10.62328/sp.v45i2.1

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%