অতুলপ্রসাদের গানের বিষয়বৈচিত্র্য ও আঙ্গিক
Abstract
বাংলা গানের বিকাশের ধারায় অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। কেবলমাত্র গীত-রচয়িতা হিসেবেই নয়-- সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ, সর্বোপরি যাবতীয় প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষক ও কর্ণধার হিসেবেই তিনি একজন বিশিষ্ট নাগরিক ছিলেন। তাঁর গানের সংখ্যা মাত্র ২০৭টি। তাঁর সংগীত-সংকলন 'গীতিগুঞ্জ' পঞ্চম সংস্করণে এ গানগুলো সন্নিবেশিত আছে। এই স্বল্পসংখ্যক গানের মধ্য দিয়েই তাঁর স্বীয় প্রতিভা অতুল মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে। তাঁর গানে প্রকাশিত হয়েছে ঈশ্বরভক্তি, প্রেম, মানবপ্রীতি, দেশপ্রেম, সমসাময়িক ঘটনা, প্রকৃতিপ্রেম সর্বোপরি অধ্যাত্ম সাধনার এক অনুপম জ্যোতির্ময়লোক। রবীন্দ্রনাথের মত অতুলপ্রসাদের মানসলোকেও সাধিত হয়েছিল ভাবয়িত্রী এবং কারয়িত্রী প্রতিভার এক অপূর্ব সমন্বয় এবং সংগতি। অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালের ২০শে অক্টোবর ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ডাক্তার রামপ্রসাদ সেন ও মাতা হেমন্তশশী। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার প্রথম সন্তান এবং মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের প্রথম দৌহিত্র। রামপ্রসাদ পেশায় ডাক্তার এবং ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী ছিলেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের স্নেহানুগ্রহে এবং অর্থানুকূল্যে তিনি ডাক্তারী পড়েন। তাঁদের আদি নিবাস মাদারীপুর জেলার মগর গ্রামে। রামপ্রসাদ ছিলেন কবি, গায়ক ও ভক্ত। প্রত্যহ প্রভাতে পিতার গান ও সংস্কৃত শ্লোক শুনে শিশু অতুলপ্রসাদ শয্যা ত্যাগ করতেন। সংস্কৃত ভাষা বোঝার বয়স তখনও তাঁর হয়নি কিন্তু তাঁর চিত্তকে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছে এই সব শ্লোক। শৈশব থেকেই এই সব শ্লোক তাঁর মানসলোকে উপ্ত করেছে অধ্যাত্মসাধনার বীজ। দুর্ভাগ্যবশত বাল্যবয়সেই তাঁর পিতৃবিয়োগ হয় । এরপর তিনি প্রতিপালিত হন মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের আশ্রয়ে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2002 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.