‘ক্ষুধিত পাষাণ'-এর ঐতিহ্যিক কাঠামো ও ঐতিহাসিক পুনর্গঠন
Abstract
প্রথানুগ সমালোচনায় এবং বিদ্যায়তনের পরীক্ষামুখী পঠন-পাঠনে 'ক্ষুধিত পাষাণ' (শ্রাবণ ১৩০২) গল্পটিকে অতিপ্রাকৃত অভিধায় চিহ্নিত করে আলোচনার ঐতিহ্য সুদীর্ঘকালের। তবে, বাংলা সাহিত্যসমালোচনার সনাতনী ধারার অন্যতম পুরুষ প্রমথনাথ বিশী বিস্ময়করভাবেই 'ক্ষুধিত পাষাণ'-এর অতিপ্রাকৃতিকতা প্রসঙ্গটি নাকচ করে দিয়েছিলেন। গল্পগুচ্ছকে গীতধর্মী অভিহিত করে সমকালীন আলোচনার পরোক্ষ প্রতিক্রিয়াতেই সম্ভবত একটি প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ গল্পগুচ্ছের প্রাথমিক পর্বের রচনায় গীতধর্মিতার স্থলে বাস্তবিক অভিজ্ঞতার কর্তৃত্ব দাবি করেও একটি সংশয়ী বাক্যে 'কঙ্কাল' ও 'ক্ষুধিত পাষাণ' গল্পে গীতধর্ম ও কল্পনা-প্রবণতার অপেক্ষাকৃত প্রাধান্য স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায় : 'গল্পে যা লিখেছি তার মূলে আছে আমার অভিজ্ঞতা, আমার নিজের দেখা। তাকে গীতধর্মী বললে ভুল করবে। 'কঙ্কাল' কি 'ক্ষুধিত পাষাণ'কে হয়তো খানিকটা বলতে পারো, কারণ সেখানে কল্পনার প্রাধান্য, কিন্তু তাও পুরোপুরি নয়। কল্পনাশক্তি ও বাস্তবতাবোধ পরস্পর-বিপরীত দুই মানস প্রবণতা হিসেবে স্বীকৃত হলেও সৃষ্টিশীল সাহিত্যে কখনও কখনও বাস্তবতাকে বেষ্টন করে কল্পনা পল্লবিত হয়, আবার এমন দৃষ্টান্তও দুর্লভ নয় যেখানে বাস্তবাশ্রিত প্রসঙ্গও কল্পনার বর্ণবিভায় জীবনশিল্পের বিচিত্রিত ক্যানভাস সৃজনে সক্ষম। ‘ক্ষুধিত পাষাণ' গল্পে এক অমোঘ প্রক্রিয়ায় পরস্পর-তৃষিত বাস্তবতা ও কল্পনা অন্তর্লীন হয়ে এমন এক অভূতপূর্ব অভিব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে যা গল্পটি প্রসঙ্গে আবেগবিস্ময়মুগ্ধ সনাতন আলোচনা-বিবেচনার বনেদি ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে। 'ক্ষুধিত পাষাণ' যে প্রাকৃত-অতিক্রমী কোন শিল্পকৃতি নয়, ঐতিহাসিক বাস্তবতার ওপর এক সৃজনক্ষম কবিসত্তার বর্ণযোজনার অভিপ্রয়াস, এক পুনর্গঠিত ইতিহাসের নন্দনশোভা - বর্তমান নিবন্ধ এই প্রত্যয় প্রমাণেরই প্রচেষ্টা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2002 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.