'ক্রীতদাসের হাসি'-র প্রতীকধর্ম ও শিল্প-কুশলতা
Abstract
শওকত ওসমানের 'রূপক উপন্যাস' হিসেবে পরিচিত 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) গ্রন্থাকারে প্রকাশ-বর্ষেই তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের অধিক অর্থমূল্য ও সম্মানের 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়। লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফৌজি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। অথচ উপন্যাসটিতে ভিন্ন আবহে আইয়ুব খানের দুঃশাসনে প্রপীড়িত পূর্ব-পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের আত্মিক প্রতিবাদ বিঘোষিত। এক সাক্ষাৎকার ঔপন্যাসিক জানিয়েছেন : আমার ঐ সময়কার উপন্যাসে রূপক অর্থে উপন্যাসের কাহিনী বর্ণনা করার অনেকগুলো কারণ ছিলো। যেমন ধর ১৯৬১ সালে রচিত 'ক্রীতদাসের হাসি'র কথাই। এ সময়ে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন এতো কড়াকড়ি ছিলো যে, সরাসরি কাউকে কিছু বলা তো দূরের কথা, বিন্দুমাত্রও শব্দ করা যেত না। ঐ কঠিন এবং ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে দিনযাপন করেও আমি 'ক্রীতদাসের হাসি' লিখেছি। ঐ সময় স্বৈরাচার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিলো। একজন শিল্পী তো আর বসে থাকতে পারে না। তাই ঐ স্বৈরাচারী সরকারের শঠের সঙ্গে আমিও শঠ করলাম। যেহেতু তার ব্যাকগ্রাউণ্ডটা মধ্যপ্রাচ্য, আরব দেশ, অষ্টম শতাব্দী সুতরাং ওরা ভাবলো আমি একটা আরব্য উপন্যাস লিখে ফেলেছি, রূপকথা লিখে ফেলেছি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলো তখন It was too late, তাছাড়া ওরা আমাকে সরাসরি কথা বলতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে ঐসব উপন্যাসে রূপকের আশ্রয় নিয়েছিলাম। মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে লেখক কথিত পূর্বোল্লিখিত ‘রূপক অর্থে' বা 'রূপকের আশ্রয়' বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। কেননা লেখকের এ ধরনের বক্তব্যকে পুঁজি করেই সম্ভবত আলোচকদের দ্বারা 'ক্রীতদাসের হাসি' 'রূপকধর্মী' উপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আসছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2002 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.