'ব্রজবুলি' বৃন্দাবনের ভাষা না, ‘বাঙালা' ভাষা?
Abstract
প্রায় সকল শিক্ষিত, সাহিত্য-রসিক পাঠক মাত্রেই জানেন, বাঙালায় মুছলিম আমলে, পনের শতকে বৈষ্ণব কবিরা 'ব্রজবুলি' নামে এমন একটা ভাষায় কাব্য-কবিতা রচনা করেন; যা এখনকার ভাষার সাথে মেলে না। এমন কি, বাঙালা ভাষা ও সাহিত্যের পাঠকরাও, সেকালের অন্য যে-সব বই পড়েন; যেমন কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্য-চরিতামৃত' প্রভৃতি,সে-সব বৈষ্ণব জীবনী-গ্রন্থের ভাষার সঙ্গেও ঐ ভাষা মেলে না। এই না-মেলার কারণে, বিশ শতকের অমুছলিম পণ্ডিত ও তাঁদের মুরীদ মুছলমান 'আলেম-উলামা' বা বিদ্বানরাও ঐ ভাষাকে ‘ব্রজবুলি' নামে আখ্যা দিয়েছেন। যার সহজ অর্থ, ও হ'ল—'ব্রজভূমির বুলি বা মথুরার ‘বৃন্দাবনের ভাষা’। বৃন্দাবনী ভাষা। বৃন্দাবনকে 'ব্রজধাম', 'ব্রজভূমি' ইত্যাদিও বলা হয়। মথুরা বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশে। তখনকার হিন্দুস্তানের এক প্রান্তে; আর বাঙালা অপর প্রান্তে। মথুরা তখন দিল্লীর ছোলতানদের শাসনাধীন। আর ‘বাঙালা'র ছোলতানরা স্বাধীন। দিল্লীতে যখন ছোলতান সিকান্দর লোদীর শাসন- আমল; বাঙালায় তখন ছোলতান আলাউদ্দীন হোছেন শাহের শাসন-আমল। তিনি ১৪৯৩ থেকে ১৫৩৮ ইছায়ী তক রাজ্য শাসন করেন। চৈতন্য দেবের জন্ম হয় ১৪৮৬ -(মতান্তেরে ১৪৮৩)তে। আর তাঁর মৃত্যুকাল ১৫৩৩-এ। চৈতন্য দেব চব্বিশ বছর বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। এর কিছুকাল পর থেকেই তাঁর প্রচার করা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের দুই প্রধান চরিত্র— রাধা-কৃষ্ণকেন্দ্রিক ‘লোক-সংগীতে’র প্রচলন হয়। এই গানকেই 'কীর্তন' বলা হয়; আর যে-ভাষায় এ-গান রচিত হয়— তার-ই নাম ‘ব্রজভাখা', 'ব্রজভাষা' বা 'ব্রজবুলি'।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2002 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.