ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' ও কাজী মোতাহার হোসেন

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v46i2.339

Authors

  • এম. এম. নজমুল হক Govt. Khan Bahadur Ahsanullah College, Satkhira Author

Abstract

গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বাঙালি মুসলমান সমাজের সামাজিক বিবিধ সমস্যা, ইসলামের বিধি বহির্ভূত প্রথা, বিশ্বাস, সংস্কার, আচরণ ইত্যাদি থেকে তাদের মুক্ত করার জন্য ১৯২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি' ঢাকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক ও ছাত্রের প্রয়াসে জন্ম হয় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামক একটি প্রগতিশীল সাহিত্য সংগঠনের। বস্তুত বাঙালি মুসলমান তথা বাঙালি জাতির অগ্রগতির ইতিহাস বিনির্মাণে জ্ঞান-বিজ্ঞান-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও চিন্তাচর্চাভিত্তিক যে সব সংগঠন যথেষ্ট অবদান রেখেছে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' তাদের মধ্যে অন্যতম। এর নামের সঙ্গে 'সাহিত্য' শব্দটি যুক্ত থাকলেও এটি গতানুগতিক ও মামুলি কোন সাহিত্য সংগঠন ছিল না। সাহিত্য শব্দটিকে এর সংগঠকেরা গ্রহণ করেছিলেন একটি বৃহত্তর তাৎপর্যে মুক্তবুদ্ধিভিত্তিক চিন্তাচর্চা ছিল তাঁদের সাহিত্যচর্চার মৌল উদ্দেশ্য। কেননা তাঁরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, 'বুদ্ধির মুক্তি' না ঘটলে অন্ধকারাচ্ছন্ন কোন সমাজের মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। তাঁদের সমুদয় কর্মকাণ্ডকে তাই তাঁরা অভিহিত করেছিলেন 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' নামে। সংগঠনের বার্ষিক মুখপত্র ছিল 'শিখা' (১৯২৭)। এতে সাহিত্য সমাজের বিভিন্ন অধিবেশনে পঠিত প্ৰবন্ধ, অভিভাষণ এবং সংগঠনের কার্যবিবরণী ছাপা হত। 'শিখা'র টাইটেল পৃষ্ঠায় 'মুখবাণী' (Motto) হিসেবে ছাপা হত 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।' এটিই ছিল তাঁদের জীবনদর্শন। এ দর্শন-নির্ভর চিন্তা-উপলব্ধিকে তাঁরা সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিয়ে সমাজের মাঝে নবজাগরণের আদর্শকে জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছিলেন। কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন উক্ত সমাজের প্রধান তিন সংগঠকের অন্যতম। কাজী আবদুল ওদুদকে বলা হত এ প্রতিষ্ঠানের ‘মস্তিষ্ক', আবুল হুসেনকে 'হস্ত' এবং তাঁকে ‘হৃদয়'।

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Downloads

Published

2003-02-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

ঢাকার ’মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ও কাজী মোতাহার হোসেন. (2003). সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka, 46(2), ১২১-১৫০. https://doi.org/10.62328/sp.v46i2.339