শহীদ কাদরীর কবিতায় নগর-প্রতিবেশ ও জীবনচেতনা
Abstract
নাগরিক কবি হিসেবে শহীদ কাদরীর অবস্থান শুধু বাংলাদেশের কবিতায় নয় বরং সমগ্র বাংলা কবিতাতেই ব্যতিক্রম ও স্বতন্ত্র। উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই (১৯৭৮) এই তিনটি গ্রন্থে শহীদ কাদরী বাংলা কবিতায় এমন এক নগর-প্রতিবেশ ও জীবনচেতনার ধারক যা তাঁকে এক নিঃসঙ্গ অবস্থানে স্থিত করেছে। বলা আবশ্যক, ষাটের দশকের যে কাল-প্রবাহে শহীদ কাদরীর কাব্যভাষা ও কবিচেতনা নির্মত হয়, তখন বাংলাদেেশর নগর বলতে রাজধানী ঢাকার নগরায়ন একবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের। সুতরাং শহীদ কাদরীর কবিতায় যে নগর প্রতিবেশ লক্ষযোগ্য সেটি প্যারিস-লন্ডনের কসমোপলেটিন বর্ণবিভায় বোদলেয়ারিয় ক্লেদ-বিবমিষাময়, এলিয়টিয় অনুর্বরতা এবং বিষণ্নতায় নির্মিত। বাংলাদেশের কবিদের মধ্যে একমাত্র তাঁর নগরই গ্রামীণ নস্টালজিক চেতনা থেকে মুক্ত। বরং তিনি চেয়েছেন নগরকে নগরের মধ্যেই মোকাবিলা করতে। এ কারণেই নাগরিকতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে তিনি নগরকেই আরাধ্য করেন, কখনোই গ্রামীণ ধুলো-ধূসরতাকে নয়। “শহরজীবনকে অন্তরঙ্গভাবে জানেন ও তাকে নিজের বিধিলিপি হিসাবে মানেন শহীদ কাদরী। তিনি হয়েছেন শহরসাধক ও শহর-সভ্যতার উত্তরাধিকারী। ঐ উত্তরাধিকার মহৎ মূল্যবোধের নয়, এমনকি সেটা অর্জনের অনুকূল পরিবেশও নগর তাকে দিতে পারে নি। জন্মসূত্রে তিনি পেয়েছেন হৃদয়-চেতনা হননকারী পীড়াদায়ক পরিবেশ।”
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.