আরণ্যক -এর আঞ্চলিকতা
Abstract
তিরিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) কল্লোলীয় (১৩৩০) উত্তেজনা আত্মস্থ ও উপেক্ষা করে সমকালীন কথাসাহিত্যে সংযোজন করেন স্বতন্ত্র এক মানবচেতনা, ব্যক্তিক ও সামষ্টিক মূল্যবোধ, আবেগ- সংবেদনাময় কর্মপ্রবাহ এবং জ্যোতির্ময় মনন ও প্রজ্ঞা। ব্যক্তির অবিরাম বিনষ্টিকে নয়, বরং অনিঃশেষ সদ্ভাবনাকেই তিনি শিল্পধারায় সিঞ্চন করেছেন। শহর জীবনের বহুমাত্রিক চালচিত্র তিনি যেমন অপরিসীম দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কন করেছেন, ঠিক তেমনি শহরবিচ্ছিন্ন অরণ্যলালিত অন্ত্যজ, অবজ্ঞাত ও প্রান্তিক বিপুল মানুষের কৌতূহলোদ্দীপক জীবনচিত্রও বাঙ্ময় করে তুলেছেন তিনি। আরণ্যক (১৯৩৯) উপন্যাসে তিনি চলচ্চিত্রিক টেকনিকে চিত্রায়ণ করেছেন সমকালীন কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানসের জীবনাভিজ্ঞতা- বহির্ভূত স্বতন্ত্র অপরিচিত এক অরণ্যাঞ্চল; যার স্থানিকবর্ণিমার সঙ্গে বিচরিত মানুষের বোধ- বোধি, মনস্তত্ত্ব এবং ভাবভঙ্গির রয়েছে বিস্ময়কর সমন্বয় ও সহাবস্থান। আরণ্যক উপন্যাসের বিস্তৃত ক্যানভাসে বিভূতিভূষণ অঙ্কন করেছেন বাংলার বাইরের এক অরণ্যজনপদের ছবি। বাংলা সাহিত্যে অরণ্যজীবন নিয়ে এর পূর্বে আর কেউ লেখেননি। ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারতের ব্যাপক অংশ জুড়ে আছে অরণ্য। কিন্তু বাংলা সাহিত্য প্রথম থেকেই সমাজভিত্তিক । বঙ্কিম- রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের অরণ্য-অভিজ্ঞতা ছিল না। বিভূতিভূষণই প্রথম অরণ্য ও অরণ্যনির্ভর মানুষের ব্যাপক ও বিশ্বস্ত জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন তাঁর উপন্যাসে, বিশেষত আরণ্যকে। এ-উপন্যাসে মানুষের দারিদ্রদীর্ণ ছবির সঙ্গে অরণ্য-প্রকৃতির উদার গম্ভীর অথচ ভয়াল ও ভয়ংকর সুদূর রূপের ছবি একাকার হয়ে গেছে। ‘এই উপন্যাসের তিনভাগ দখল করে আছে প্রকৃতি কিন্তু সবটাই দখল করে আছে মানুষ। মানুষের এমন গল্প বিভূতিভূষণও আর একটি লিখতে পারেননি। তিনি যে কত বড় শিল্পী ছিলেন তার পরাকাষ্ঠা দেখা গেছে এখানে'।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.