ফারছী-বাঙালায় লেখা সতের শতকের কতিপয় গণমুখী গদ্যের নমুনা
Keywords:
Abstract
আগেই বলা হ'য়েছে, আমাদের হাল জামানার বাঙালা ভাষার মূল ধারার নাম ফারছী-বাঙালা । ১৮০০ খৃষ্টাব্দ তক সর্বোতভাবে চালু ঐ ফারছী-বাঙালা ছিল, অবিভক্ত। এর সাথে মুছলিম ও অমুছলিম সমাজের উচ্চবিত্ত বা অভিজাত শ্রেণীর কোন সম্পর্ক ছিল না। অথবা থাকলেও তা ছিল সামান্যই। তাঁরা এ ভাষাকে ঘেন্না ক'রতেন। অতএব, ঐ ফারছী-বাঙালা কোন বিশেষ কওমের একক দৌলৎ ছিল না। তা ছিল—সমাজের সকল জনমানুষের আপন দৌলৎ। এ-কারণে ঐ ফারছী-বাঙালাকে—গণমুখী বাঙালা ভাষা না ব'লে উপায় নেই। ইতোপূর্বে, এ-বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তার সাথে একটি কথা যোগ ক'রে বলা যায়; চলতি নিবন্ধে আলোচিত রচনাগুলোর প্রায় সব-ই অমুছলিম কলমে লেখা। তথাপি রচনাগুলোর শব্দ-চেতনা, বাক-ভঙ্গি, ভাষা-রীতি, পদ-গঠন তরতিব আলোচনা ক'রে দেখানো হয়েছে, ওগুলো আসলে হিন্দু কলমে লেখা মুছলমানী গদ্য। আর তা এদেশে শত শত বছর ধ'রে চালু ফারছী-বাঙালায় লেখা। এ-রচনায় কোট্ করা নমুনাগুলোর ভাষার আখলাক-খাছিয়ৎ (চরিত্র-বৈশিষ্ট্য) গণমুখী। কেননা এই কিছিমের বোল-বুলি বা জবানীতে মুছলিম ও অমুছলিম জনকওমের সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত লোকজন — কম- ছে-কম পাঁচ-ছ'শ বছর লেখার কাজকাম চালিয়ে এসেছে। তারা সব রকম ভেদ-বিভেদকে দূরে রেখে ঐ ফারছী-বাঙালায় ফি-দিনের কাজ চালিয়ে এসেছে। আলোচ্য রচনায় সতের শতকে লিখিত ঐ রকম রচনার যে-সব নমুনা হাজির ও আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো ভারতীয় বাঙালার লেখক পঞ্চানন মণ্ডল, বালাদেশী গবেষক ড. মুহম্মদ শাহ্জাহান মিয়া ও আরও দু'চারজনের যোগাড় করা। বেশীর ভাগ-ই প্রকাশিত। দু'একটি অপ্রকাশিত। চলমান আলোচনায় 'হকিকৎ নামা' (সত্য বিবরণ), 'ওয়াক্ফ নামা' (ভূমিদান পত্র), 'দলিল-দস্তাবেজ' (জমি কেনা-বেচার ডকুমেন্ট), ‘সালিশ নামা' (বিচারের সিদ্ধান্তপত্র) ও 'হুকুম নামা' (ব্যক্তিগত ভাবে দেওয়া আদেশপত্র)—এই পাঁচ কিছিমের গদ্যের পুরানো নমুনা নিচেয় হাজির করা হ'ল। এগুলো ১৬১০ থেকে ১৬৯২ ইছায়ীর মধ্যে লিখিত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.