আল-মু'আল্লাকাত' কাব্যমালায় নারী-চরিত্রের স্বরূপ
Abstract
‘আল-মু‘আল্লাকাত’” কাব্যমালা প্রাচীন আরব সমাজের বিভিন্ন বিষয়ের সুনিপুণ বর্ণনায় সমৃদ্ধ। এর মধ্যে আছে গোত্র-প্রশংসা, মরুচারী বিভিন্ন জীব-জন্তুর বিচিত্র জীবনধারা, শোকগাথা, লোক-কাহিনী, অতীত ইতিহাস, গৌরব, পরাক্রমশীলতা, বংশ তালিকা, শৌর্য-বীর্যের কাহিনী, যুদ্ধ-বিগ্রহ, ঝগড়া, আতিথেয়তা, প্রেম, প্রিয়ার পরিত্যক্ত-ভিটা সর্বোপরি প্রাচীন আরবের নিত্যদিনের জীবন প্রবাহের সরস উপস্থাপন। তবে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি যে দিক এ কাসীদা-গুলোকে বিশিষ্টতা দিয়েছে তা হচ্ছে নারী চরিত্রের সফল চিত্রণ। নারীর রূপ, আঙ্গিক বৈশিষ্ট্য, স্বভাব-চরিত্র প্রভৃতির বর্ণনা এগুলোকে জীবন্ত, প্রাণবন্ত ও চিরন্তন করে রেখেছে। ১৮ শতকের শেষে (১৭৯৮- ১৮৩০ খ্রি.) ইংরেজি সাহিত্যে বিশেষ করে ইংরেজি কবিতায় রোমান্টিসিজম' নামে যে নতুন ধারার বিকাশ হয়েছিল সেই ধারাটির চিত্র আমরা দেখতে পাই বহু শতাব্দী পূর্বের প্রাচীন আরবি সাহিত্যে তথা ‘আল-মু'আল্লাকাত' কাব্যমালায়। যদিও ধারাটি সে সময় রোমান্টিক হিসেবে পরিচিত ছিল না তবুও রোমান্টিসিজমের সকল বৈশিষ্ট্য তাতে বিদ্যমান ছিল । রোমান্টিক কবি Wordsworth (১৭৭০-১৮৫০ খ্রি.), Coleridge (১৭৭২-১৮৩৪ খ্রি.), Byron (১৭৮৮-১৮২৪ খ্রি.), Shelley (১৭৯২-১৮২২ খ্রি.), Keats (১৭৯৫-১৮২১ খ্রি.), Southey (১৭৭৪-১৮৪৩ খ্রি.), Moore (১৭৭৯-১৮৫২ খ্রি.)- প্রমুখের মত মু'আল্লাকাতের কবিরাও প্রকৃতি ও মানুষকে নতুন দৃষ্টি দিয়ে নিরীক্ষণ করেছিলেন। এ কবিরা কল্পনার তরীতে জীবন, যৌবন ও পারিপার্শ্বিকতাকে দেখেছিলেন। নারী-চরিত্র ও জীবনের ঘটনাবলিকে কল্পনার স্পর্শে অসাধারণ করে তুলেছিলেন। মনের আবেগ, অনুভূতি ও কল্পনাকে রূপে, রসে ভরিয়ে রোমান্টিক সুর সৃষ্টি করেছিলেন তাঁদের কবিতায়। প্রথম প্রথম পাঠক সমাজের কাছে রোমান্টিক কবিতা যেমন দুর্বোধ্য ও অমার্জিত মনে হত" তেমনি মু'আল্লাকাগুলোর নারী-চরিত্রের উপস্থাপন প্রথমে অশালীন মনে হলেও রুচি বদলের ধারায় এবং সাহিত্য-মান বিচারে এ কবিতাগুলো আজ মর্যাদামণ্ডিত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2005 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.