শিল্প-সাহিত্য ও রাজনীতি : আন্তঃসম্পর্ক
Abstract
নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক সমাজে মানব জীবন উৎপাদন-সম্পর্ক নির্ভর। এই উৎপাদন- সম্পর্ক-নির্ণীত সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক বিন্যাস মানব জীবনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। অবশ্য সমাজ গঠিত হয় ব্যক্তির সমন্বয়ে। তাই সমাজ গঠনে ও নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির ভূমিকাও বিশেষভাবে বিবেচ্য। এবং সেই নিরিখে, উৎপাদন সম্পর্ক সৃষ্টিতে ও নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির এবং একই সঙ্গে সমষ্টির তথা সমাজের কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব কারণে সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় অনস্বীকার্য । শ্রেণীবিভক্ত কোন সমাজই স্থির বা অনড় নয়। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী নিয়মে প্রতিটি সমাজ-অভ্যন্তরে থাকে স্থিতি ও পরিবর্তনকামী শক্তির দ্বন্দ্ব, সুবিধাভোগী ও নির্যাতিত শ্রেণীর দ্বন্দ্ব। এই শ্রেণীদ্বন্দ্ব, বা শ্রেণীসংগ্রামে বিজয়ী শ্রেণী প্রতিষ্ঠা করে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সমাজ-ব্যবস্থা। এভাবে এক সমাজ-কাঠামো নিরবচ্ছিন্নভাবে অপর সমাজ- কাঠামোতে রূপান্তরিত হয়। রূপান্তরের এধারায় আদিম সাম্যবাদী সমাজ থেকে ক্রমান্বয়ে এসেছে দাস-প্রভুভিত্তিক সমাজ, সামন্ত সমাজ ও বুর্জোয়া বা পুঁজিবাদী সমাজ। মার্কস-এঙ্গেলস এ জন্যেই বলেছেন : The history of all hitherto existing society is the history of class struggles." এবং সেই সংগ্রামে সামাজিক মানুষ ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় তাঁর শ্রেণী অবস্থান অনুযায়ী অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক মানুষই অবস্থান করে হয় সুবিধাভোগী শ্রেণীতে অথবা নিপীড়িত শ্রেণীতে। সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তাই কেউ নিরপেক্ষ বা মাঝামাঝি অবস্থান নিতে পারে না। নিরপেক্ষ আর সোনার পাথরবাটি একই কথা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2005 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.