পদ্মানদীর মাঝি : শিল্পরূপ
Abstract
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) 'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), 'জননী' (১৯৩৫) ও ‘পুতুল নাচের ইতিকথা'র (১৯৩৬) পর লিখলেন 'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬) উপন্যাস। প্রথম তিনটি রচনায় নিম্নমধ্যবিত্ত ও ক্ষয়িষ্ণু সমাজের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। অন্য দিকে 'পদ্মানদীর মাঝি' প্রধানত অন্ত্যজ শ্রেণীর কাহিনী। এ উপন্যাসে সামন্ত-অবশেষ হলো মেজকর্তা। হোসেন মিয়া ধূর্ত ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া ধূর্ত ব্যবসায়ী ও রহস্যময় উপনিবেশবাদী হয়েও কেতুপুরের মাঝিদের মধ্যে মিশে আছে অন্তরঙ্গভাবে। তাদেরই যেন অপরিহার্য অংশ সে। কেতুপুরের অন্য সবাই জেলে সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তাদের বাস্তব জীবনই এ উপন্যাসের বিষয়। 'পদ্মানদীর মাঝি' কেতুপুরের দারিদ্র্যপীড়িত জেলে-মাঝিদের নিত্য দিনের কঠোর পরিশ্রম, তাদের ওপর চেপে বসা শোষণ-বঞ্চনা এবং ব্যক্তিক, পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের সমস্যাবলির একটি নিখুঁত উপাখ্যান! নায়ক কুবেরের মাধ্যমে ঔপন্যাসিক কেতুপুরের বৃহত্তর সমাজ ও গোষ্ঠী জীবনের নানা সমস্যা চিত্রায়িত করেছেন। কুবেরের মধ্য দিয়েই সরল-অসহায় জেলে-মাঝিদের সংসার-সমাজ ও ব্যক্তি জীবনের করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে। কুবেরের সঙ্গী গণেশ, ধনঞ্জয়, রাসু, পীতম মাঝি প্রমুখ সকলেই পদ্মাতীরের সহায়হীন মানুষ। তারা ‘মেজকর্তা'র সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যৌন শোষণে যেন অবাঞ্ছিত কতকগুলো প্রাণী। সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বাঁচার কোন অনুকূল অবস্থাই তারা রচনা করতে পারে নি। ফলে সামন্ত শোষকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসও তাদের হয় নি কোন দিন। যেন আজন্ম ক্রীতদাস তারা। এ অসহায় জেলেদের জীবনে হোসেন মিয়ার আগমন ঘটে রহস্যময় মানুষ হিসেবে। সে 'ময়নাদ্বীপ' নামের উপনিবেশ গড়ার অন্তরালে পাতে চতুর ফাঁদ ; নদীর মোহনায় মাত্র জেগে ওঠা চরে কেতুপুর থেকেই মানুষ ভাগিয়ে নিয়ে বসতি গড়তে চায় এই উপনিবেশবাদী। হোসেন মিয়ার সে নিষ্ঠুর ফাঁদে পড়ে রাসু জীবনস্মৃত হয়ে ফিরে এসেছিল ; আর অনিবার্য পরিস্থিতির শিকার হয়ে কুবেরকে অবৈধ প্রণয়সঙ্গিনী কপিলাকে নিয়ে ছেড়ে যেতে হয়েছিল কেতুপুর গ্রাম ও তার স্ত্রী-সন্তানদের।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2005 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.