হাঁসুলী বাঁকের উপকথা : কাহারকুলের মহাকাব্য

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v47i1.4
Crossmark

Authors

Abstract

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৯৮-১৯৭১) স্থিতপ্রজ্ঞ জীবন ও শিল্পভাবনার অসাধারণ শিল্পকীর্তি হাঁসুলী বাঁকের উপকথা (১৯৪৭)। ভারতবিভাগের অব্যবহিত প্রাক্ পর্যায়ে প্রকাশিত এ-উপন্যাসে জীবন ও শিল্পের ঘটেছে বিস্ময়কর মিথস্ক্রিয়া। অধিকাংশ উপন্যাসের মত, এ-উপন্যাসেও, তিনি পরিপ্রেক্ষিতরূপে বিবেচনা করেছেন রাঢ় অঞ্চলের প্রকৃতি, নিসর্গ ও বৈচিত্র্যমণ্ডিত জনজীবন। আজন্ম রাঢ়ের ভূ-প্রাকৃতিক যে ঐতিহ্য তিনি তাঁর প্রকৃতি ও প্রতিভায় লালন করেছেন, তা-ই পরিস্ফুটিত হয়েছে তাঁর শিল্পকর্মে, বিশেষত ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা'য়। রাঢ় অঞ্চলের রুক্ষ ও রূঢ় ভূ-পরিবেশে, বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তারাশঙ্করের জন্ম। জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে লাভপুরের গ্রামসীমায় আবদ্ধ থেকে তিনি লক্ষ করেছেন সামন্তযুগের অস্তাচল-যাত্রা; দেখেছেন ব্রিটিশ বণিকরাজের প্রতাপ ও পতন। কালের পরিবর্তনে, যন্ত্রদানবের পেষণে ও মন্থনে সনাতন গ্রামসমাজের সুধাপ্রাপ্তি ও বিষোদগারের ধ্বংসাত্মক রূপও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন নিবিড়ভাবে। সময়স্রোতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে কীভাবে বহমান নরগোষ্ঠীর জীবনধারায় রূপ-রূপান্তর সংঘটিত হয়, জীবনের ভূগোল কীভাবে বদলে যায়, তা আশৈশব তিনি অর্জন করেছেন রাঢ়ের বিচিত্র প্রাণপ্রবাহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয়সূত্রে। তারাশঙ্করের 'সাহিত্যের মূলসত্তা ও আত্মার সন্ধান পাওয়া যায় রাঢ়ের লোকসমাজ ও লোকসংস্কৃতিতে। তাঁর সাহিত্যের প্রাণশক্তির প্রস্রবণ এই লোকসমাজের গিরিগহ্বর থেকে উৎক্রান্ত। 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথায় এই চিত্র গভীর ব্যাপকতায় সুপ্রত্যক্ষ। তারাশঙ্করের শিল্পসাহিত্য প্রধানত রাঢ় অঞ্চলের জীবন ও সমাজের রূপ- রূপায়ণ। কৌম সমাজ-সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় সমগ্রতা তাঁর উপন্যাসে বহুমাত্রিকতায় সংগ্রথিত। বীরভূম অঞ্চলে বিরাজিত সার্বস্তরিক জাতিসত্তার অত্যাশ্চর্য সমাবেশে তাঁর উপন্যাস সমৃদ্ধ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতির সামবায়িক গ্রন্থনায় যে জগৎ তিনি নির্মাণ করেছেন তা অনন্যলব্ধ। কুলীন ব্রাহ্মণ, বাউল-বৈষ্ণব, সাধু-সন্ন্যাসী, তান্ত্রিক, ভৈরব-ভৈরবী, ধর্মান্তরিত মুসলমান, ক্ষুদ্র-বৃহৎ জমিদার, বর্ণহিন্দু বহির্ভূত হাড়ি, বাগ্দি, বাউরি,  কেউট, ডোম, কাহার প্রভৃতি শ্রেণী ও পেশার মানুষ তাঁর উপন্যাসে জীবন্ত অবয়বে উদ্ভাসিত। একদিকে আত্মসমাহিত প্রাচীন অনুবর্তী সমাজ, অন্যদিকে যন্ত্রনির্ভর অগ্রবর্তী সমাজ- দুই-ই তাঁর উপন্যাসে সত্য-স্বরূপে মূর্ত। তাঁর উচ্চারিত সত্য-স্বর সমাজ- ইতিহাস, অর্থ ও শ্রেণীচেতনার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সূত্রে সংশ্লিষ্ট। 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা'য় রাঢ় বঙ্গে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নরগোষ্ঠীর সমগ্রজীবনসত্য উপস্থাপিত হয়েছে। 

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

2005-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা : কাহারকুলের মহাকাব্য . (2005). সাহিত্য পত্রিকা, 47(1), ৬৫-৭৮. https://doi.org/10.62328/sp.v47i1.4

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%