ইবসেন, নারীবাদ ও নোৱা
Abstract
My book is poetry, and if it is not poetry, then it will be.-- Henrik Ibsen.
বিশ্বসাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি হেনরিক ইবসেনের (১৮২৮-১৯০৬) আ ডলস্ হাউজ (১৮৭৯)। নোরা হেলমার চরিত্রকে ঘিরেই এর যত খ্যাতি। শেক্সপীয়রের কালজয়ী নাটকের চরিত্রগুলোর পরে আর কোনো নাট্যচরিত্র নিয়ে এতটা আলোড়ন তৈরি হয় নি। শেক্সপীয়র তাঁর নাটকের কাহিনী গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাস থেকে। অন্যদিকে সমকালীন মানুষের জীবনযাপন ছিল ইবসেনের নাট্যকাহিনীর উৎস। ইবসেনকে তাই বলা হয় ইউরোপীয় বাস্তববাদী নাট্যধারার জনক। লক্ষ করলে দেখা যাবে নোরা চরিত্রের মাধ্যমেই এই বাস্তবতার চূড়ান্ত অভিব্যক্তি ঘটেছিল। নোরা এমনই এক সৃষ্টি, কালের পরম্পরায় যার আবেদন এখনও নিঃশেষ হয়ে যায় নি। আ ডলস্ হাউজ নাটকের একেবারে শেষে নোরা তার স্বামীর বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়ে সেই যে পথে বেড়িয়ে পড়েন, মনে করা হয় সেটাই ছিল নারীমুক্তির সরণি, অচির কালের মধ্যে যার সূত্র ধরে দেশে দেশে নারীরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত আর জয়ী হতে থাকে। ইবসেন অবশ্য নিজে একে নারীমুক্তি না বলে ‘মানবমুক্তি' বলেই উল্লেখ করেছেন। মহান শিল্পীর মহৎ উক্তিই বটে! নারীবাদীরা এখন তো একথাই বলছেন, নারীমুক্তি মানে মানবমুক্তিই। কিন্তু ইবসেন তাঁর আ ডলস হাউজকে নারীবাদের প্রচারপত্রে পরিণত করেন নি। নোরাও হয়ে ওঠে নি সেই প্রচারণার মুখপাত্র। শিল্পের দায় মিটিয়েই ইবসেন তাঁর এই নাটকটি রচনা করেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2005 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.