আবু ইসহাকের গল্পের সমাজবাস্তবতা
Abstract
আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) প্রবলভাবে জীবনবাদী ও সমাজসংলগ্ন কথাশিল্পী। সমকালমনস্কতা এবং তার রূপায়ণে বস্তুনিষ্ঠ নিরাসক্তি তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দান করেছে। সমাজের অবহেলিত, উপেক্ষিত ও অতি সাধারণ মানুষের জীবন-ভাষ্য হিসাবে তাঁর গল্পগুলো সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। 'তাঁর ছোটগল্পে সমাজের উপেক্ষিত জনেরা অবলীলায় বেরিয়ে আসে। কুসংস্কারের বদ্ধ আবহাওয়ায় লালিত জীর্ণ সমাজ-জীবনকে তিনি তাঁর সহানুভূতির রসে সিক্ত করে অভিব্যক্তি দিয়েছেন। আবু ইসহাকের গল্পগ্রন্থ দুটি, 'হারেম” ও 'মহাপতঙ্গ”। তিনি মূলত গ্রামীণ জীবনের রূপভাষ্য নির্মিতিতে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল। গ্রামীণ জীবন ও জীবন অন্তর্গত সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব অন্বেষার স্বরূপ চিত্রিত হয়েছে তাঁর গল্পে। গ্রামীণ মানুষের জীবনবোধ, জীবনাচরণ ও যাপিত জীবনকে তিনি নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর শিল্পীমানস বিকশিত হয়েছে এদের প্রাত্যহিক জীবনের সুখ-দুঃখ-হাসি- কান্নাকে অবলম্বন করে। ফলে তাঁর গল্পে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে গ্রামীণ সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের অসহায়ত্ব, কুসংস্কার, অর্থনৈতিক শোষণ-নির্যাতন, সামাজিক বঞ্চনা এবং ব্যক্তিক অসঙ্গতির বহুমাত্রিক চিত্র। তিনি তাঁর গল্পে দেখিয়েছেন গ্রামীণ মানুষের সামর্থ্য আছে, আছে সম্ভাবনা কিন্তু এরা বন্দী এদের সংস্কারের কাছে, ধর্মান্ধতার কাছে, সমাজের ক্ষমতাধর ব্যক্তির কাছে। অশিক্ষা, কুশিক্ষা আর কুসংস্কারের কারণে ক্রমেই এদের অসহায়ত্ব বাড়ছে এবং একটি বন্দী সমাজ প্রতিবেশের মধ্যে ক্রমেই এরা তলিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, টাকা এবং ক্ষমতা একটি বিশেষ শ্রেণীর হাতে থাকবার কারণে এই অসহায় মানুষগুলো বন্দীদশা থেকে মুক্ত হতে পারছে না। তাই বলে এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠির জীবন নিস্তরঙ্গ নয়। সমস্ত অশুভের বিরুদ্ধে তারা লড়ে যাচ্ছে সোনালি ভোরের প্রত্যাশায়। এ কারণেই লক্ষ করা যায় 'ইতিবাচক জীবনবোধের আলোয় আবু ইসহাকের নায়কেরা সমস্ত অন্ধতা, কুসংস্কার আর শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে একটি সুন্দর সমাজপ্রতিবেশ নির্মাণে হয়েছে জাগ্রত।"
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2006 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.