ঢোঁড়াই চরিতমানস'-এ নিম্নবর্গের জীবন
Abstract
বাংলাসাহিত্যের আধুনিক যুগে গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা প্রতিটি শাখাতেই নিম্নবর্গের মানুষ ও তাদের জীবন শিল্পরূপ পেয়েছে। বাংলাসাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৯৫৮)- এর আকর্ষণীয় চরিত্র নিম্নবর্গীয় এক মানুষ ঠক চাচা ( যদিও নেতিবাচক চরিত্র হিসেবেই তার উপস্থাপনা)। পরবর্তী সময়ে বঙ্কিমচন্দ্রের কিংবা রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসে প্রাধান্য না পেলেও কাজী নজরুল ইসলাম থেকে সমকাল পর্যন্ত প্রায় সব ঔপন্যাসিকের রচনাতে প্রাধান্য পেয়েছে নিম্নবর্গের চরিত্র। লেখকের লেখক, পাঠকের লেখক নন- এ ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বাঙালি পাঠক সমাজ যাঁকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখেছেন, সেই শক্তিমান কথাসাহিত্যিক সতীনাথ ভাদুড়ী ঢোঁড়াই নামক চরিত্রকে উপজীব্য করে সমাজের সেই ধরনের মানুষের জীবনকেই চিত্রিত করার প্রয়াস পেয়েছেন যারা সামাজিক, অর্থনৈতিক যে কোনো বিচারেই দ্বিধাহীনভাবে নিম্নবর্গের বলে চিহ্নিত হতে পারে। উল্লেখ্য যে, আন্তোনিও গ্রামসি 'সাব অলটার্ন' শব্দের মাধ্যমে তাদেরকেই বুঝিয়েছেন যারা শ্রেণী, বর্ণ, বয়স, পেশা কিংবা যে কোনো বিচারেই সমাজে মর্যাদাহীন। তুলসী দাসের 'উত্তর রামচরিত' এর সংগঠনকে ব্যবহার করে সতীনাথ ভাদুড়ী নির্মাণ করেছেন তাঁর এই অসামান্য উপন্যাস। মহাকাব্যের আঙ্গিকে রচিত এ উপন্যাসে নিম্নবর্গীয় মানুষের স্বপ্ন ও সংগ্রামের এক অসাধারণ চিত্র নির্মিত হয়েছে। সুবৃহৎ এই উপন্যাসের সুবিশাল ক্যানভাসে শ্রেণী, অর্থ, মর্যাদা— সবদিক দিয়েই যারা নিম্নবর্গ, তাদের জীবনকথার অনুপুঙ্খ বর্ণনাই তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিহারের এক অনুন্নত শহর জিরানিয়ার ততোধিক অনুন্নত শহরতলির তাত্মা ও বাঙড়টুলির মানুষের জীবনযাপন, রীতি-নীতি, আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে উপন্যাসের প্রথম চরণে২; দ্বিতীয় চরণে সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে বিসকান্ধা গ্রামে তন্তিমাছত্রি বা কুশবাহাছত্রি কৃষিজীবী ভূমিকেন্দ্রিক প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের ছবি এঁকেছেন লেখক ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2006 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.