আবদুল মান্নান সৈয়দের কবিতা : পরাবাস্তবতা ও প্রকরণ
Abstract
বাংলাদেশের ষাটের দশকের কবিতায় আবদুল মান্নান সৈয়দের (জ. ১৯৪৩) অবস্থান চিহ্নিত হতে পারে একজন কলাকৈবল্যবাদী কবি হিসেবে। জীবনের দুর্বিষহ সংগ্রাম ও আলোড়নকে স্বীকার করে নিয়েই যিনি নিমজ্জিত থাকতে চান স্বেচ্ছা-আত্ম-বিস্মৃত এক জগতে। আর বাংলাদেশের কবিতায় পরাবাস্তব কবিতা-চর্চার একক ও নিঃসঙ্গ শিল্পরূপকারও তিনি। Art for Art's sake-এর প্রবক্তা হিসেবে মান্নান সৈয়দ ষাটের সময়পর্বে নিজেকে প্রকাশ করেছেন তাঁর শিল্প-অন্বেষী চেতনায়। আর এর উৎস সম্পর্কে বলা যেতে পারে : সমাজের অসংখ্য অনুশাসন থেকে তার প্রয়োজন তার নিত্যনৈমিত্তিক অভাববোধকে পূর্ণ করার দায়িত্ব থেকে শিল্প যখন মুক্তি চায় তখনই কলাকৈবল্যবাদের উদ্ভব।' তাঁর এ আত্ম-উদারবর্তদ্রষ্টাসুলভ জীবনভঙ্গি তাঁকে শুদ্ধ শিল্প- অন্বেষার নামে পলায়নবাদীও করে তুলেছে খানিকটা। আর এ-সূত্রেই তাঁর কবিতায় লক্ষ করা যায় পরাবাস্তব শিল্প চর্চার সচেতন প্রয়াস। তিনি এ ধারায় শিল্প সফল হলেও কখনো কখনো পুনরাবৃত্তি, অতিকথন, একমুখী বিষয় চেতনার দোষে দুষ্ট। সমাজ, রাষ্ট্র, স্বকাল এবং সুগভীর জীবনদর্শনকে বিস্মৃত হয়ে মান্নান সৈয়দ জীবনের যে চিত্র তাঁর কবিতায় তুলে ধরেন সেখানে মানুষের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য নেই, মুক্তিও নেই। এ কারণেই ষাটের শহীদ কাদরী (জ. ১৯৪২), রফিক আজাদ (জ. ১৯৪৩), আবুল হাসান (জ. ১৯৪৭-১৯৭৫), নির্মলেন্দু গুণ (জ. ১৯৪২) প্রমুখের কবিতায় যে জর্জরিত যুগাত্মাকে অনুধাবন করা যায় মান্নান সৈয়দ সেখানে এক স্বপ্নময় ফ্যান্টাসির জগতে ভ্রামণিক । জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭); জ্যোৎস্না-রৌদ্রের চিকিৎসা (১৯৬৯); ও সংবেদন ও জলতরঙ্গ (১৯৭৪); পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২); কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড(১৯৮২); মাছ সিরিজ (১৯৮৪) প্রভৃতি কাব্যে তাঁর প্রমাণ আছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2006 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.