নজরুল নবযুগ ও শেরে বাংলা
Abstract
একুশ বছরের ব্যবধানে নবযুগ পত্রিকা দুইবার প্রকাশিত হয়। দুইবারই এই পত্রিকার মালিক ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। প্রথমবার নবযুগ প্রকাশিত হয় সান্ধ্য দৈনিক হিসেবে ১৯২০ সালের ১২ই জুলাই। ফজলুল হক তখন কলকাতার খ্যাতিমান আইনজীবী। ওই সময়ে নজরুল, মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে, পত্রিকাটির যুগ্মসম্পাদক ছিলেন। দ্বিতীয়বার নবযুগ প্রকাশিত হয় ১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন ফজলুল হক বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং 'শেরে বাংলা' বলে জনগণের দ্বারা নন্দিত, তবে ক্ষমতার রাজনীতিতে তাঁর বিরুদ্ধ-পক্ষও প্রবল। নজরুল তখন সারা বাংলার সাধারণ মানুষের দ্বারা কবি হিসেবে নন্দিত ও বন্দিত। এবার নজরুলকে পত্রিকাটির সম্পাদক করা হয়। প্রথমবার যখন নবযুগ প্রকাশিত হয় তখন নজরুলের সাহিত্য-জীবনের শুরু। নজরুল তখন তাঁর যৌবনের সমস্ত শক্তি নিয়োজিত করেছিলেন নবযুগের লেখায়। নবযুগের মাধ্যমে নজরুল স্বদেশে নবযুগ আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। দ্বিতীয়বার যখন নবযুগ প্রকাশিত হয় তখন নজরুল ভগ্নস্বাস্থ্য, তাঁর শক্তি-সামর্থ্য প্রায় অবসিত এবং যেটুকু ছিল তাও ক্ষীয়মান। সর্বোপরি তখন তিনি পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক অনটনে ও ঋণের দায়ে বিপর্যস্ত, এবং তাঁর স্ত্রী প্রায় তিন বছর ধরে পক্ষাঘাতে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। নবযুগ যখন প্রথম প্রকাশিত হয় তখন দেশে বিরাট গণজাগরণ। স্বদেশী আন্দোলনের (১৯০৫-১১) চেতনা তখনও বিকাশমান। স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে আছে উনিশ শতকের বাংলার বৌদ্ধিক জাগরণ এবং হিন্দু সমাজের ধর্মসংস্কার ও সমাজসংস্কার আন্দোলন। বাঙালি মুসলমান সমাজে জাগরণের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হতে থাকে বিশ শতকের শুরু থেকেই। বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৮) কারণে চারবছর অনেক কিছু বন্ধ ছিল, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হতেই গণজাগরণের অভিব্যক্তি ঘটতে থাকে। ভারতের ব্রিটিশ শাসকেরা ভারতবাসীর প্রতি যুদ্ধের সময়ে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ফলে রাজনৈতিক অসন্তোষ ক্রমাগত বেড়ে চলে ৷ জালিওয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের (১৯১৯) প্রতিক্রিয়ায় সমগ্র ভারতবাসীর অন্তর ক্ষুব্ধ ও ক্ষিপ্ত হয়। তার পরেই দেখা দেয় অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০) ও খিলাফত আন্দোলন (১৯২১-২২)।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2006 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.