ইশারা বা সঙ্কেত ভাষা : ভাষাতাত্ত্বিক তাৎপর্য
Abstract
মানুষের জন্য 'ভাষা' প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার যার মুখ্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভাষা সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন। কিন্তু মানব সম্প্রদায়ে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের ভুবন শব্দহীন। মূক ও বধির এসব ব্যক্তি কি তাহলে ভাষাহীন জগতের অধিবাসী? মূক ও বধির ব্যক্তিদের জগতটা ভাষাহীন নয়, যোগাযোগের বা সংজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে তাঁদের রয়েছে শব্দহীন (soundless ) ও অবাচনিক যোগাযৌগিক সংশয় (non-verbal communication system) যাকে ইশারা ভাষা বা সঙ্কেত ভাষা (sign language) হিসেবে অভিহিত করা হয় । সংঙ্কেত ভাষা হচ্ছে এমন একটি সংশয় যার মাধ্যমে মূক ও বধির ব্যক্তিরা মাথা, মুখ-মণ্ডলসহ শরীরের ঊর্ধ্বাংশ ও দুই হাত দিয়ে তৈরী বিভিন্ন সঙ্কেতের দ্বারা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সম্পন্ন করে। সঙ্কেতভাষা সম্পর্কে প্রাচীন ও জনপ্রিয় একটি ধারণা হচ্ছে, এ ভাষা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এ ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তি হলো, অতীতে মনে করা হতো সঙ্কেতভাষা আর কিছুই নয় কেবল একগুচ্ছ অঙ্গভঙ্গি (gesture) এবং এসব অঙ্গভঙ্গি সর্বজনীন। কিন্তু বর্তমানে গবেষণালব্ধ তথ্যাবলি থেকে জানা যায় যে, সঙ্কেত ভাষা পুরোপুরি প্রথাবদ্ধ (conventionalized) ও সূত্র-শাসিত (rule-governed) একটি ভাষা' এবং এক সম্প্রদায়ের সঙ্কেত ভাষার সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের সঙ্কেতভাষা যথেষ্ট বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এমনকি অঙ্গভঙ্গিও কোন সর্বজনীন ব্যাপার নয়। এক ভাষার সংশ্লিষ্ট অঙ্গভঙ্গি অন্য ভাষায় নাও থাকতে পারে কিংবা থাকলেও সেক্ষেত্রে সাধারণত অর্থ বৈচিত্র্য থাকে । এ বিষয়ে আজ আর কোন দ্বিমত নেই যে, পৃথিবী জুড়ে কেবল একটি সঙ্কেত ভাষা তো নয়ই বরং বিভিন্ন বধির সম্প্রদায়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সঙ্কেত ভাষা রয়েছে।
Downloads
Downloads