শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে রাধা-কৃষ্ণের ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব
Abstract
শ্রীকৃষ্ণকীৰ্ত্তন মূলত একটি প্রাকৃত প্রণয়োপাখ্যান : বিশেষজ্ঞদের অনুমান : এটি একটি যাত্রা পালা। বাসলী দেবীর বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মেলায় গীত হওয়ার উদ্দেশ্যে এটি রচিত হয়েছিল। সাহিত্য-মূল্যে উঁচু দরের হলেও শ্রীকৃষ্ণকীৰ্ত্তন প্রকৃত বিচারে ধামালি শ্রেণীর রচনা গ্রামের অশিক্ষিত, স্কুল রুচির দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দদানের জন্যই কাব্যটি রচিত হয়েছিল এ সম্পর্কে সমালোচকদের কিছু স্পষ্টভাষণ স্মরণীয়
ক. কাব্যখানি গ্রাম্য শ্রোতার জন্য...
খ. এ কাহিনী আদিরসাত্মক বলিয়াই জনপ্রিয়
গ. বসন্তবাবুর আবিষ্কৃত খণ্ডিত পুঁথির নাম রাধাকৃষ্ণের ধামালী বলিলে অধিকতর সঙ্গত হয় ।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের সম্পূর্ণ কাহিনী হয়তো আর কোনো দিনও জানা যাবে না। কারণ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ একমাত্র যে পুঁথিটি আবিষ্কার করেছেন, সেটি খণ্ডিত । এ পুঁথির 'প্রথম দুখানি' এবং ‘শেষের অন্ততঃ একখানি” পাতা পাওয়া যায় নি । পুঁথিতে বাংলা তুলোট কাগজে উভয় পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে। উভয় পৃষ্ঠায় লেখার জন্য পুঁথির একটি পাতায় রয়েছে দুটি পৃষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন পুঁথির ২২৬ পাতা অর্থাৎ ৪৫২ পৃষ্ঠার মধ্যে ‘মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। এই হিসেবে পুঁথি থেকে খোয়া গেছে প্রথমের দু পাতার ৪ পৃষ্ঠা, শেষ পাতার ২ পৃষ্ঠা এবং মাঝের ৪৫ পৃষ্ঠা = ৫১ পৃষ্ঠা : মাঝের এই ৪৫ পৃষ্ঠা একটানা নয়; ১৩টি খণ্ডের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে! শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে ৪০৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে ৪১৮টি পদ। সুতরাং এই অনুপাতে খোয়া যাওয়া ৫১ পৃষ্ঠায় আরো অন্তত ৫২টি পদ থাকার কথা। পুঁথি খণ্ডিত বলে এখানে পদ সংখ্যা ৪১৮, পূর্ণাঙ্গ পুঁথিতে পদসংখ্যা (৪১৮ + ৫২) ৪৭০ থাকার কথা ।
Downloads
Downloads