ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা : উনিশ শতকের কলকাতা ও ডিরোজিও
Abstract
ব্যক্তি কখনো কখনো নিজের সৃষ্টিশীলতায় আর বৈপ্লবিক সাফল্যে ইতিহাসকে অতিক্রম করে যান বটে; কিন্তু ইতিহাসের বাস্তব পটভূমিতেই তাঁর ভূমিকা ও সিন্ধি । ইতিহাসের গতিরেখায় ব্যক্তির অবস্থানটিকে চিনে নিয়ে তাঁর কৃতি ও কৃতিত্বের মূল্যায়ন তাই কেবল সুবিধাজনকই নয়, লাভজনকও বটে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের অন্য উপায়ও অবশ্য থাকে না। যাঁদের ক্ষেত্রে থাকে, অর্থাৎ যাঁরা অতীতকে ভবিষ্যতের দিকে শুধু টেনে নিয়ে যান না, বরং সময়ের গতিকে বদলে দিয়ে খোদ ইতিহাসের নায়ক হয়ে ওঠেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক পাঠই সবচেয়ে কার্যকর পাঠ। এই নিবন্ধে ডিরোজিও পাঠের ক্ষেত্রে আমরা তাঁকে ঐতিহাসিক পটভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করব না বাংলার ইতিহাসে উনিশ শতকের উপস্থিতি বেশ চোখধাঁধানো। শিক্ষা-সংস্কৃতি ও জীবনবোধের নতুনত্বে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বড় মাপের মানুষের পদচারণায় ঐ সময়ের কলকাতা ছিল মুখর। এ চোখধাঁধানো মুখরতাকে ততোধিক মহিমায় কীর্তিত করার একটা রেওয়াজ আধুনিক বাঙালি বিদ্বৎসমাজে খুবই সুলভ। বিপরীতে নানা সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে এ মহিমাকীর্তনকে সন্দেহ করার প্রবণতাও দুর্লভ নয় ! (কবিরাজ ১৯৯৭) আমরা মূল্য আরোপ থেকে যথাসম্ভব বিরত থেকে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বা ছেদের নিরিখে সময়প্রবাহকে দেখতে চাইব; আর এই নিরিখে বুঝতে চাইব ডিরোজিওর ঐতিহাসিক ভূমিকা ও তাৎপর্য ।
Downloads
Downloads