সাহিত্যে ইলেক্ট্রা মিথ ও বুদ্ধদেব বসুর 'কলকাতার ইলেক্ট্রা'

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v48i1-2.7
Crossmark

Authors

Abstract

‘ঐতিহাসিক উপন্যাস' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন যে, আমাদের 'সুপ্রত্যক্ষ নরনারীর জীবনকে কবি ‘একটি সুবিশাল ঐতিহাসিক রঙ্গভূমির মধ্যে স্থাপন করে তাঁর কাম্য পরিবর্তন, পরিবর্জন এবং পরিবর্ধনের ভেতর দিয়ে ‘ঐতিহাসিক রসের' সহযোগে সে কাহিনীকে 'একটি চিত্তবিস্ফোরক দূরত্ব ও বৃহত্ত্ব" দান করতে চান। রবীন্দ্রনাথ যাকে 'ঐতিহাসিক রস' বলেছেন, তাকেই মিথ-পুরাণের রস বলতে চেয়েছেন কেউ কেউ। এলিয়ট আধুনিক শিল্পের বোধের (unification of sensibilities) সামঞ্জস্য দানের জন্য মিথকথার ভাববস্তু ও প্রকরণকে স্বীকার করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন গভীরভাবে। পুরাণ বা মিথ, ইতিহাস বা কিংবদন্তি, লোককথা, ঐতিহ্য প্রভৃতির পারস্পরিক গভীর যোগ অনুধাবন করেই বুদ্ধদেব বসু মহাভারতকে 'ধূসর স্থবির উপাখ্যান' না ভেবে 'আবহমান মানবজীবনের মধ্যে এর প্রবহমানতা'কে নতুন করে তুলে ধরতে চেয়েছেন। বিশ্ব-পুরাণে প্রোথিত জাতিক/মানবীয় ঐতিহ্য-অনুভব প্রশ্নেই নয় কেবল, আদিম কাহিনীবিন্যাসের আশ্রয়ে জীবনের সত্যরূপ আরো বিস্তৃতরূপে অনুসন্ধান কিংবা মিথ-পুরাণের কাহিনীকে নিজ যুগচেতনায় বিবর্তিতভাবে গ্রহণ করেন সাহিত্যিকেরা। এই পুনঃব্যাখ্যা হয়ে ওঠে শিল্পীর নিজস্ব মনোবৃত্তির অনুগত এবং কখনও কখনও স্বকালের ভাষ্য। মানব-প্রবৃত্তিও একটা অপরিবর্তনের সূত্রে সমৃদ্ধ পুরাণ-মানবের ইতিহাস, যে ভূমিতে অন্বিষ্ট হতে পারে প্রবৃত্তির প্রকৃতিগত উৎস-ব্যাখ্যা। প্রাচীন ঐতিহ্যের অভিঘাত মুছে ফেলতে না পেরেই বোধ হয় সে ইতিহাস থেকে সতত জাগ্ৰত নিজেকে জানতে চায় মানুষ; নিজ সময়ের জটিল সংকটাত প্রশ্নের মীমাংসা খুঁজতেই সাহিত্যিকের সেখানে অনুপ্রবেশ। গ্রিক পুরাণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিজিঘাংসু চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত ইলেক্‌ট্রা। অ্যাট্রিয়ুস রাজবংশ বিষয়ে এই বিখ্যাত গ্রিক মিথের 'প্রত্নপ্রতিমার' ওপর নাটক রচনায় আগ্রহী হয়েছেন বহু অগ্রগণ্য শিল্পস্রষ্টা। আগামেনন সেই মহাবীর গ্রিক রাজা যার সৈনাপত্যে সম্মিলিত গ্রিকবাহিনী ট্রয় নগরী দখল ও ধ্বংস করেছিল। আগামেমননের স্ত্রী ক্লাইটেমনেস্ট্রা, পুত্র অরেস্টিস, দুই কন্যা ইফিজিনিয়া ও ইলেকট্রা। ট্রোজান যুদ্ধ শেষে আগামেমনন তাঁর রাজ্য আরগসে ফিরে আসেন। সেই সময়ে তাঁর জীবনের ঘটনাবলি অনুসরণ করে তৈরি হয়েছিল ‘ওরিস্তিয়া’ উপাখ্যান। আগামেননের মৃত্যু ঘটে পত্নী ক্লাইটেমনেস্ট্রার হাতে, যাকে আবার খুন করে আপন পুত্র অরেস্টিস। বংশপরম্পরায় ঘটতে থাকা নৃশংস ঘটনাবলির বর্ণনা আছে ইস্কাইলাসের অরেস্টিয়ান ট্রিলজি-তে । এছাড়া ইলেকট্রাকে নায়িকা করে প্রধান দুজন গ্রিক নাট্যকার যথাক্রমে সফোক্লিস ও ইউরিপিডিস লিখেছেন নাটক ইলেকট্রা। আমেরিকান নাট্যকার ইউজিন ও'নীল লিখেছিলেন Mourning Becomes Electra (১৯৩১), জ্যাঁ জিরাদু ইলেকত্রে (১৯৩৭), জ্যাঁ পল সার্ত্র Les Mouches দ্য ফ্লাইজ (১৯৪৩) নাটক এবং হুগো ভন হফমানস্থল ও রিচার্ড স্ট্রস Elektra নামে অপেরা লিখেছিলেন। টি. এস. এলিয়টের দি ফ্যামিলি রিয়্যুনিয়ন (১৯৩৯) নাটকেও রয়েছে ইলেকট্রা-কাহিনীর বিস্তার।

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

2011-02-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

সাহিত্যে ইলেক্ট্রা মিথ ও বুদ্ধদেব বসুর ’কলকাতার ইলেক্ট্রা’ . (2011). সাহিত্য পত্রিকা, 48(1-2), ১০৫-১১৫. https://doi.org/10.62328/sp.v48i1-2.7