ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক বাংলা পরিভাষা: গঠন ও প্রয়োগ-কাঠামো

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v48i3.12
Crossmark

Authors

Abstract

বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন প্রপঞ্চ (phenomenon) ও ধারণাকে (concept) কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাষায় সংজ্ঞাপিত করবার সুপ্রচলিত উপায় হলো সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহের উপযুক্ততম পরিভাষা প্রণয়ন। কোনো বিষয়ের পরিভাষা বলতে বোঝায় এমন কতগুলো শব্দ যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ধারণাসমূহকে সংহত অবয়বে যথার্থ, নির্ভুল ও দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ করে থাকে। বিভিন্ন জ্ঞানশৃঙ্খলায় ব্যবহৃত হয় কিছু 'অভিধা' জাতীয় শব্দ যা ওই শৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট ধারণাসমূহকে সুস্পষ্ট করে। এরকম চাবিশব্দই (keyword) পরিভাষা হিসেবে পরিচিত। পরিভাষা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন জ্ঞান আয়ত্ত করবার সুযোগ যেমন সৃষ্টি হয় তেমনি এর সূত্র ধরে ভাষারও 'শক্তিবর্ধন' ঘটে থাকে (রাজশেখর বসু; ১৩৪০)। অন্য কথায়, একটি ভাষায় দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চার ফলে পরিভাষা গড়ে ওঠে। বাংলা ভাষার প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, উনিশ শতক থেকে বাংলা ভাষায় আন্তর্দেশীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা যত বেশি প্রসার লাভ করেছে তার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিভাষা প্রণয়নের বিষয়টিও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেননা, স্বতন্ত্র জ্ঞানশাখার জন্য প্রয়োজন হয় স্বতন্ত্র পারিভাষিক শব্দ। আর এ কারণেই উল্লিখিত সময় থেকেই বাংলা পরিভাষা প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গৃহীত হয়ে আসছে। বর্তমানেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণভাবে পারিভাষিক শব্দের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে বলা যায় যে, সংশ্লিষ্ট শব্দটি 'একটি সুনির্দিষ্ট ও অদ্ব্যর্থ তাৎপর্য জ্ঞাপন করে, একাধিক তাৎপর্য কখনোই জ্ঞাপন করে না, এবং কোন বিশেষ তাৎপর্য নির্দেশের জন্য কখনোই ব্যবহৃত হয় না একাধিক শব্দ' (হুমায়ুন আজাদ; ১৯৮৫ ৪৪৭)। কিন্তু বাংলা পরিভাষার ক্ষেত্রে প্রায়শই দেখা যায় যে, একই তাৎপর্য নির্দেশের জন্য রয়েছে একাধিক শব্দ। আবার একই শব্দ দিয়ে নির্দেশিত হয় একাধিক তাৎপর্য। এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। হুমায়ুন আজাদ প্রদত্ত সংজ্ঞার্থের নিরিখে বলা যায় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি পারিভাষিক শব্দ 'সুনির্দিষ্ট ও অদ্ব্যর্থ' এবং একক তাৎপর্যে সংজ্ঞাপিত হওয়ার সামর্থ্য অর্জন না করে, সেই সঙ্গে ওই জ্ঞানশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট ব্যাপক মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না পায় ততক্ষণ পর্যন্ত ওই শব্দটির একাধিক বিকল্প রূপ তৈরি হতে থাকাই স্বাভাবিক। এই দিকগুলোকে বিবেচনা করে বর্তমান প্রবন্ধে বাংলা ভাষা ও সহিত্যবিষয়ক পরিভাষার গঠন-কৌশল ও এদের প্রয়োগ-কাঠামো নিরূপণ করবার চেষ্টা করা হবে। বিষয়টি আলোচনার জন্য বাংলা পরিভাষার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রদান করে ভাষা-পরিকল্পনার (language planning) তত্ত্বীয় নির্দেশনার আলোকে পারিভাষিক শব্দের ব্যবহারিক বহুমাত্রিকতা, এর প্রয়োগতাত্ত্বিক (pragmatic) বিভিন্ন দিকসমূহ তুলে ধরা হবে এবং ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক বাংলা পরিভাষার বিভিন্ন প্রচলিত উদাহরণ বিশ্লেষণ করে দেখানোর পাশাপাশি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করা হবে।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

2011-06-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক বাংলা পরিভাষা: গঠন ও প্রয়োগ-কাঠামো. (2011). সাহিত্য পত্রিকা, 48(3), 199-212. https://doi.org/10.62328/sp.v48i3.12

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%