চাকমা লোকসাহিত্যে বাংলা ভাষার প্রভাব
Abstract
লোকসাহিত্য মূলত লোকমানবের স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টিশীলতার নান্দনিক প্রকাশরূপ। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের যেমন সমৃদ্ধ লোক-ঐতিহ্য রয়েছে তেমনি দেশের অন্যান্য আদিবাসী নৃগোষ্ঠীরও নিজস্ব লোকসংস্কৃতি বিদ্যমান। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী অন্যতম বৃহৎ নৃগোষ্ঠীর নাম 'চাকমা'। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ জাতিসত্তা সংখ্যাগরিষ্ঠ। লোকসাহিত্যে চাকমা নৃগোষ্ঠী অত্যন্ত ঋদ্ধ, তাদের রয়েছে নিজস্ব সাহিত্যিক ঐতিহ্য ও সম্পদ। চাকমা লোকসাহিত্যের ভাষাবিষয়ক বিশ্লেষণে লক্ষণীয় যে, এতে প্রচুর বাংলা উৎসজাত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। সাধারণভাবে, ধ্বনিগত এবং রূপতাত্ত্বিক কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলা প্রমিত ও ঔপভাষিক শব্দ চাকমা লোকভাষায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ কারণে এরূপ অনুমান করা কষ্টসাধ্য নয় যে, চাকমা লোকসাহিত্যে বাংলা ভাষার তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। কোনো ভাষার লোকসাহিত্যের ভাষাগত দিকসমূহ বিবেচনার জন্য লোকভাষাবিজ্ঞানের সহায়তা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। আধুনিককালে লোকভাষাবিজ্ঞান লোকমানবের ভাষা ব্যবহারের বিবিধ সূক্ষ্ম দিকের প্রতি আলোকপাত করে এবং তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণে অগ্রসর হয়। এই তাত্ত্বিক বিবেচনাকে অনুসরণ করে বর্তমান প্রবন্ধে চাকমা লোকসাহিত্যে ব্যবহৃত বাংলা শব্দগুলো উপস্থাপন করে তাদের লোকভাষাবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রবন্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে চাকমা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও লোকভাষাবৈজ্ঞানিক তত্ত্বকাঠামো উপস্থাপন করা হবে। উল্লিখিত আলোচনা অংশের প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুসারে চাকমা লোকসাহিত্যের বিভিন্ন অনুষঙ্গে বাংলা শব্দের ব্যবহার কীরূপ তা ভাষাবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিরূপণের চেষ্টা করা হবে।
Downloads