হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কাঞ্চনমালা: ইতিহাসের শিল্পরূপ
Abstract
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় অবদান রাখলেও ভারততত্ত্ববেত্তা হিসেবে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর (১৮৫৩-১৯৩১) অবস্থান সর্বজনবিদিত। বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কার ও সম্পাদনাই শুধু নয়, সৃজনশীল সাহিত্যরচনায়ও তিনি উৎকীর্ণ করেছেন তাঁর মনন ও মনীষার স্বাক্ষর। তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ী ভারততত্ত্ববিদ। ভারতবর্ষের সুপ্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য, নৃতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব, সমাজ-সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর ছিল প্রজ্ঞামণ্ডিত স্বচ্ছদৃষ্টি; যার প্রতিফলন তাঁর বিচিত্রমাত্রিক সাহিত্যকর্মে লক্ষণীয়। সৃজনশীল রচনায়, বিশেষত উপন্যাসে তাঁর ভারততত্ত্বসম্পর্কিত বৈদগ্ধ্যের স্বাক্ষর সুচিহ্নিত। প্রথম উপন্যাস কাঞ্চনমালায় তিনি অবলম্বন করেছেন বৌদ্ধ ধর্মৈতিহ্য এবং অসাধারণ নৈপুণ্যে সুদূর অতীতের আলো-অন্ধকারময় জীবনবাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন শিল্পরসে জারিত করে। বৌদ্ধধর্মের রীতি-নীতি, বিশ্বাস-সংস্কার-মূল্যবোধ, প্রচার-প্রসার, শাসন-অনুশাসন- প্রশাসন প্রভৃতি এ উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে অত্যাশ্চর্য দক্ষতায়; সেই সঙ্গে প্রাচীন ভারতবর্ষের এক অজ্ঞাত কৌতূহলোদ্দীপক জীবনভাষ্য অভিব্যঞ্জিত হয়েছে নান্দনিক শিল্পসমগ্রতায়।
Downloads