উপভাষাতত্ত্ব ও বাংলা উপভাষা চর্চার সম্ভাবনা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v48i3.3

Authors

  • হাকিম আরিফ University of Dhaka Author

Abstract

ভাষা নামক জটিল সংশয়ের একটি রূপান্তর হচ্ছে উপভাষা। আর এই রূপান্তর প্রপঞ্চটি অনেকটাই উপলব্ধি-সমর্থ, বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণযোগ্য। ভাষা ও উপভাষাকে যখন অভিন্ন প্যারাডাইমের অংশ মনে করা হয়, তখন ভাষা নামক বিমূর্ত ভাবনার মূর্ত প্রকাশ হচ্ছে উপভাষা। আসলে ভাষা নামক ধারণাটি কিছুই বুঝায় না, যদি না আমরা এর রূপ- রূপান্তরের নানা মাত্রা যথা ব্যক্তি ভাষা, সমাজ ভাষা, উপভাষা ইত্যাদিকে প্রত্যক্ষ করতে সমর্থ হই। ধ্বনিতত্ত্বের 'ধ্বনিমূল' নামক মনস্তাত্ত্বিকভাবে উপলব্ধ এককের (পার্কার ও রাইলে, ১৯৯৪) বাস্তব ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রকাশ হিসেবে 'সহ-ধ্বনিমূল' যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ভাষার মূর্তায়নে উপভাষাও অনেকটা তাই। ভাষা বিশ্লেষণতত্ত্বে 'উপভাষা' অভিধাটি মূলত একটি ভাষার স্থানিক ও ভৌগোলিক প্রকাশকেই চরিতার্থ করে, যদিও এর অন্যমাত্রিক প্রকাশও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে । বাংলা ‘উপভাষা' পরিভাষাটির ব্যবহার কি উপভাষা ধারণার কোনো নেতিবাচকতাকে সূচিত করে? অর্থাৎ 'উপভাষা' কি একটি ভাষার অশিষ্ট, ইতর বা উন রূপের পরিচায়ক? এ প্রশ্নগুলির অবতারণা করা হয়েছে এ জন্যে যে, একসময় উপভাষাকে শিষ্ট বা প্রমিত রূপের ইতর বা বিকৃত প্রকাশ বলে মনে করা হতো। কেননা আধুনিক নাগরিক জন-মানসে এই ধারণা প্রচলিত আছে বলেই শহুরে শিক্ষিত সমাজ উপভাষাকে বর্জন করে নাগরিক মান ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে (শহীদুল্লাহ, ১৯৯৮ [১৯৬৫])। অবশ্য বর্তমানে এ ধারণার অবসান ঘটেছে (শিলিং-এসটেস, ২০০৬) এবং এ সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আজকে যে রূপটি একটি ভাষার শিষ্ট বা প্রমিত রূপ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে, সেটি মূলত সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি কর্তৃক ব্যবহৃত পরিসুত রূপ ব্যতীত আর কিছুই নয় (ইসলাম, ১৯৯৮; মনিরুজ্জামান, ১৯৯৪)। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা ভাষা অঞ্চলে যে রূপটি আজ প্রমিত রূপ হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য হয়েছে, তা কলকাতার নিকটবর্তী নদীয়ার কৃষ্ণনগরে প্রচলিত উপভাষারই একটি রূপ (মোরশেদ ২০০৭, হালদার ১৯৮৬, শহীদুল্লাহ ১৯৬৫)।' মূলত একটি ভাষিক জনগোষ্ঠীর যে অঞ্চলটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচর্যায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাধান্য বিস্তারকারী, সে অঞ্চলের বিশেষ ভাষা-রূপটিই ঐ ভাষার মান বা প্রমিত রূপ হিসেবে সমাদৃত হয়, যেখানে পার্শ্ববর্তী ও দূরবর্তী অঞ্চলের ভাষারূপগুলো কেন্দ্রের সঙ্গে দূরত্বের আনুপাতিকতায় সুবোধ্য বা দুর্বোধ্য উপভাষারূপে অভিধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। এখানে কেন্দ্র বলতে প্রমিত ভাষার স্বীকৃতিবাহী অঞ্চলকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ শিষ্ট ও উপভাষার পরিচয় নির্ধারণেও আর্থ- রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সুবিধা ও বঞ্চনাই যথাক্রমে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে, যদিও তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা অনেক সময় সমর্থিত নয়। এই সংক্ষিপ্ত ও  বর্ণনামূলক প্রবন্ধে উপভাষাতত্ত্বের আলোকে বাংলা উপভাষা চর্চার প্রধান প্রবণতা, বৈশিষ্ট্য ও নতুন সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপভাষা ধারণার একটি তাত্ত্বিক কাঠামোও এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Downloads

Published

2011-06-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

উপভাষাতত্ত্ব ও বাংলা উপভাষা চর্চার সম্ভাবনা . (2011). সাহিত্য পত্রিকা, 48(3), ৪৭-৭৪. https://doi.org/10.62328/sp.v48i3.3