আহসান হাবীবের সারাদুপুর : সময়ের শিল্পকথা
Abstract
বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকের কবি আহসান হাবীব বাংলাদেশের কবিতার পথ-নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৪৭-পরবর্তী বাংলাদেশের কবিতার প্রধান চারিত্র্য মানবতাবাদী দায়বদ্ধতা। আহসান হাবীব এ ধারার কাব্যের প্রধান রূপকার। বলা চলে, আহসান হাবীবই চল্লিশের কবিদের মধ্যে একমাত্র, যিনি বিচিত্র অনুষঙ্গে কবিতাকে সামাজিক অঙ্গীকারের সঙ্গে একীভূত করতে পেরেছিলেন। তাঁর কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে ব্যক্তির অস্তিত্ব-সংরাগ, আত্মপরিচয়গত সংকট (আইডেনটিটি ক্রাইসিস), মাটি-মানুষের প্রতি ঐকান্তিক মমত্ববোধ। সুগভীর অস্তিত্বসংকটে আধুনিক মানুষের অনিকেত চেতনা তাঁর কাব্যে রূপাবয়ব লাভ করেছে। স্বদেশ, মৃত্তিকামূল, মানুষ, ঐতিহ্য এবং প্রেম আহসান হাবীবের কবিতার প্রধান উপজীব্য। তাঁর কবিতার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কবির অস্তি-বোধ । ব্যক্তি ও সমাজের টানাপড়েন, দায়বদ্ধতার সূক্ষ্মতাবোধ, নৈর্ব্যক্তিকতা, অস্তিচেতনা, ব্যঙ্গসংশ্লেষী ও প্রতীকী ভাষারীতি তাঁর কবিতাকে আধুনিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। এ-সূত্রেই তিনি নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর কবিতায় উপজীব্য করে তুলেছেন রাষ্ট্রনীতি, প্রেমচেতনা, জীবনবোধ এবং স্বদেশচেতনামূলক নানা অনুষঙ্গ।' আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কবির নাগরিক চেতনা। এ-শেকড় নিহিত মূলত কবির নগরকেন্দ্রিক জীবনে ।
Downloads