রবীন্দ্রচিন্তায় নারী
Abstract
‘ছোটোবেলায় মেয়েদের স্নেহযত্ন মানুষ না যাচিয়াই পাইয়া থাকে। আলো-বাতাস তাহার যেমন দরকার এই মেয়েদের আদরও তাহার পক্ষে তেমনি আবশ্যক।” শৈশবে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে রবীন্দ্রচিন্তার এই ধরন বিশেষ কোনো তত্ত্বাশ্রিত নয় মানবিক, প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারিক। সম্পূর্ণ রবীন্দ্রসাহিত্যেই নারীর অস্তিত্ববিবেচনা ও নারীমুক্তির প্রসঙ্গটি স্বাভাবিক, সমাজসাপেক্ষ ও প্রাকৃতিক; বিশেষ কোনো একাগ্র অভিনিবেশ নয়। তবু সংবেদনশীল হৃদয়ে তিনি ধারণ করেছিলেন পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র, সর্বোপরি ব্যক্তিজীবনে নারীর ভূমিকা ও অবস্থানের গুরুত্ব। এ-ক্ষেত্রে জীবনপথের সৃষ্টিশীল এ-যাত্রী উচ্চকণ্ঠ সামাজিক ডঙ্কা বাজাতে পারেননি সত্য, আবার সামাজিক চাপও অস্বীকার করেননি। উনিশ শতকীয় সংস্কার আন্দোলনের প্রায় পুরোটাই মানবীয় মুক্তির ধারাক্রমে নরনারীর সম্পর্ক নিয়ে। উনিশ শতকে সতীদাহ রহিতকরণ (১৮২৯), বিধবাবিবাহ প্রচলন (১৮৫৬), হিন্দুত্ব বর্জন করে অসবর্ণ বিবাহ (১৮৭২) এবং বিশ শতকে হিন্দুত্ব বর্জন না-করে অসবর্ণ বিবাহ (১৯২৩), বাল্যবিবাহ রহিতকরণ (১৯২৯) প্রভৃতি সামাজিক আন্দোলন, লিখিত বিতর্ক ও আইন প্রবর্তন নিশ্চিতভাবেই রবীন্দ্র-মনোগঠনে আলোড়ন তৈরি করেছে। আমরা বর্তমান আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ যেখানে সচেতনভাবে ধৃত, সেই প্রবন্ধাবলিতে নারী-বিবেচনার প্রসঙ্গগুলো অনুধাবনের চেষ্টা করব।
Downloads