অমিয় চক্রবর্তীর শিল্পদৃষ্টি
Abstract
কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) ব্যক্তিগত জীবনে কয়েক বছর (১৯২৭-৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার্থে অক্সফোর্ড-যাত্রার পূর্ববর্তী ওই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি রবীন্দ্ররচনার প্রথম পাঠক। কবির ইচ্ছে অনুযায়ী সৃষ্ট শিল্পকর্মের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, রূপবিন্যাস, গ্রহণ-বর্জন, পুনর্লিখন ইত্যাদি বিষয়ে তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। এর আগে কবির সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি বিদেশেও গিয়েছেন। সে-কারণে, এ কথা মনে হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, অমিয় চক্রবর্তী আগাগোড়া রবীন্দ্রপ্রভাবিত। কিন্তু অমিয় চক্রবর্তীর রচনাকর্ম পাঠে এ কথার সত্যতা প্রতিপাদন করা যাবে না। বরং সর্বদা রবীন্দ্রবৃত্তে বসবাস করা সত্ত্বেও অমিয় চক্রবর্তী স্বতন্ত্র শিল্পদৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। কবি অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কাব্যের নতুন রীতি ও সুরের অন্যতম স্রষ্টা ও পথপ্রদর্শক। তাঁর কবিতা অনায়াসে সে সাক্ষ্য প্রদান করে। তিনি কখনো অনুরুদ্ধ হয়ে, কখনো বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, কবিতা তথা সাহিত্য ও শিল্পের রূপ-রীতি নিয়ে সৃষ্টি করেছেন অত্যন্ত উঁচুমানের কিছু গদ্যরচনা। বাংলা ও ইংরেজি ভাষা মিলে তাঁর রচিত সৃষ্টিসম্ভার ক্ষীণাবয়ব নয়। তবে বাংলা ভাষায় রচিত তাঁর গদ্যগ্রন্থ মাত্র দুটো : চলো যাই (১৯৬২) ও সাম্প্রতিক (১৯৬৩)। তন্মধ্যে ভ্রমণবিষয়ক ক্ষুদ্রাবয়ব পুস্তিকা চলো যাই সবিশেষ গুরুত্ব সত্ত্বেও বর্তমান গবেষণার প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক নয়। সে হিসেবে তাঁর একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ সাম্প্রতিক-এ প্রতিফলিত শিল্পচৈতন্যই আমাদের অন্বিষ্ট। তবে উক্ত পুস্তকের বাইরে ১৯৯৮ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ফয়জুল লতিফ চৌধুরী সম্পাদিত অমিয় চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ-এ পত্র-পত্রিকা থেকে উদ্ধৃত কবির দুটি প্রবন্ধ ও তিনটি সাক্ষাৎকার সংকলিত হয়েছে। সে-কারণে উক্ত দুটো গ্রন্থই অমিয় চক্রবর্তীর শিল্পবোধ তথা সাহিত্যতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্বেষণে আকরগ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
Downloads
Downloads