বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার প্রথম পর্যায় : একটি পর্যবেক্ষণ
Abstract
বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলা চর্চার শুরু বিশ শতকের চল্লিশের দশকে জয়নুল আবেদিন (১৯১৪-১৯৭৬), কামরুল হাসান (১৯২১-১৯৮৮), সফিউদ্দীন আহমেদ (জন্ম-১৯২২), এস.এম. সুলতানের (১৯২৩-১৯৯৪) হাত ধরে। এ চার শিল্পী চিত্রকলার যে ভাষা নির্মাণ করেছিলেন তার স্বরূপ এবং তাৎপর্য কী, কোন উত্তরাধিকার তারা লাভ করেছিলেন, তাদের নির্মিত ধারা কারা কীভাবে বহন করেছে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলা চর্চার প্রথম পর্যায়কে চিহ্নিত করে। সামগ্রিকভাবে এই প্রথম পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য ছিল সংস্কৃতিগত পরিচয় নির্মাণের প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টা ছিল জাতি-রাষ্ট্র গঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের শুরু, যার পরিণতি ১৯৪৭এর দেশবিভাগ এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গঠন । ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক চিত্রকলা চর্চার শুরু হয়েছিল মূলত পাশ্চাত্য চিত্রভাষার (স্বভাববাদী রীতি) বিপরীতে একটি নিজস্ব চিত্রভাষা নির্মাণ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে । নব্যবঙ্গীয় শিল্প আন্দোলন ছিল এই প্রচেষ্টার প্রথম পদক্ষেপ। এখানে স্বদেশভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল নতুন শৈলী নির্মাণ প্রচেষ্টা। এই স্বদেশভাবনার উৎস ছিল সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন, প্রাচ্যবাদী ভাবনা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা। পরবর্তীকালে এই স্বদেশভাবনার সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়েছিল বিশ্বভাবনা, সমকালীনতা এবং আঙ্গিকের নিরীক্ষাধর্মিতা এরকম একটি পরিপ্রেক্ষিতকে পেছনে রেখেই আবির্ভাব জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, সফিউদ্দীন আহমেদ ও এস.এম. সুলতানের। সর্বভারতীয় খ্যাতি অর্জনের পর এ শিল্পীরাই অগ্রপথিক হয়েছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলা চর্চার। আঙ্গিকের নিরীক্ষাধর্মিতা, পাশ্চাত্য রীতির সঙ্গে লোককলা, লোকজীবন এবং স্বাজাত্যবোধের সংমিশ্রণে নতুন ভাষা নির্মাণ প্রচেষ্টা – এ সবই ছিল এদের শিল্পের বৈশিষ্ট্য। সংস্কৃতিগত এবং জাতিগতভাবে আত্মপরিচয় নির্মাণ প্রচেষ্টার একটি বলিষ্ঠ ধারা তৈরী হয়েছে এ অগ্রপথিকদের ছবির মধ্য দিয়ে। এই প্রবন্ধে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ধারাটির স্বরূপ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.