উনিশ শতকের বাংলা গান ও খ্রিষ্ট-ধর্মগীত
Abstract
উনিশ শতকের সূচনালগ্নে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবন ও মননশীলতায় পরিণত বোধ স্পষ্ট হয়ে উঠল। বিদেশিদের দীর্ঘকালের শাসন ও শোষণে পরাধীন অপমানিত জাতি তার আত্ম-পরিচয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চেষ্টা করল নানা ধরনের উপলব্ধি ও কর্মপ্রক্রিয়া দিয়ে। তখন সমাজ ও সাহিত্যে কতগুলো লক্ষণ চিহ্নিত হলো। যেমন, ধর্মনীতিকে উপেক্ষা করে জীবনধর্মী মানবিক মূল্যবোধের প্রসার, স্বাদেশিকতা ও সার্বভৌমত্বের ধারণা, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের প্রতি নিষ্ঠা, ভাষা ও দর্শনের মুক্ত প্রকাশ, নারীর প্রতি সম্মান ও মর্যাদাদান প্রভৃতি বিষয় গুরুত্বের সাথে উঠে এল। এই শতকের শেষ লগ্নে বিদেশি শাসকের আগ্রাসন এবং ঔপনিবেশিকতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে বিদেশি পণ্য বর্জন করলেও সেদেশের চিন্তানায়কদের রচনা পাঠ করে তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমুন্নত আদর্শকে সচেতনভাবে গ্রহণ করল বাঙালি বিদ্বৎসমাজ । ফলস্বরূপ, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিটি আঙ্গিকে বিশেষ বিশেষ পরিবর্তন এবং নতুন নতুন ধারার সংযোজন লক্ষ করা গেল। সেই প্রবাহে রাজনৈতিক চেতনা, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি বাংলা গানেও বয়ে গেল পরিবর্তনের হাওয়া । উনিশ শতকের বাংলা গানের অনেকগুলো ধারা চিহ্নিত করা যায়। বাংলা টপ্পা, বাংলা ধ্রুপদ, বাংলা খেয়াল, ব্রহ্মসংগীত ও স্বদেশি গান তন্মধ্যে অন্যতম। আঠারো শতকের শেষের দিকে রামপ্রসাদ সেনের (১৭২০-১৭৮১) শাক্ত সংগীত রচনা দিয়ে খণ্ডগীতির বা লঘুগানের সূচনা ঘটে, যার মাধ্যমে মধ্যযুগীয় সংগীত কাঠামো অর্থাৎ বৈষ্ণব পদাবলী, মঙ্গলকাব্য বা পাঁচালির ন্যায় দীর্ঘগীত থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক যুগে প্রবেশের প্রথম পদক্ষেপ ঘটে বলা যায়। পরবর্তীকালে কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (১৭৭২-১৮২১), রঘুনাথ রায় (১৭৫০-১৮৩৬), হরু ঠাকুর, নীলমণি পাটনি, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, সাতু রায়, গদাধর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ শাক্ত সংগীতকে আরো সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করে তোলেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.