সিকান্দার আবু জাফর : প্রসন্ন প্রহরে বিষণ্ন স্বদেশ
Abstract
বাংলা সাহিত্যের বিচিত্র অঙ্গনে ব্যক্তিত্বচিহ্নিত অবদান রাখলেও কবি সিকান্দার আবু জাফরই আমাদের কাছে সবচেয়ে উজ্জ্বল-প্রবল-প্রাণবন্ত। স্বকালের সবকিছুকে কবিতায় ধারণ করেছেন তিনি। বর্তমানকে কবিতায় উদ্যাপনের বিপদ সম্পর্কে তিরিশের কবিরা যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তাতে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হন নি। বর্তমানের কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ বেশ আন্তরিকতার সঙ্গেই উপভোগ করেছেন সিকান্দার। তাঁর যে-কোনো কাব্যগ্রন্থই এই উক্তির অনুকূলে বিশ্লেষিত হতে পারে। প্রসঙ্গত স্মরণ করি জীবনানন্দ দাশের উজ্জ্বল উক্তি : ‘কবির পক্ষে সমাজকে বোঝা দরকার, কবিতার অস্থির ভেতরে থাকবে ইতিহাসচেতনা ও মর্মে থাকবে পরিচ্ছন্ন কালজ্ঞান।' এই উদ্ধৃতিটি বিবেচনায় রেখে সিকান্দারকে পাঠ করলে তাঁর কবিতার অন্তর্গত ঐশ্বর্যের অনুরণন যথেষ্ট স্পষ্ট ও অর্থবহ আবহে অনুভব করা সম্ভব। তাঁর স্বকালের স্বদেশ ও বিদেশের প্রায় প্রতিটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তাঁর শিল্পযাত্রার সাহসী সহচর । রবীন্দ্র-অতিক্রমণ এবং স্বকীয় শিল্পসৌকর্যে আত্মপ্রকাশের প্রয়াস বাংলা কবিতায় যে ‘আধুনিকতা'র জন্ম দিয়েছে, তাতে মানুষের সংঘচেতনাকে অঙ্গীকার করার পরিবর্তে অস্বীকার করার দম্ভই প্রবলরূপে প্রতীয়মান। ব্যক্তিমানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে বিচ্ছিন্নতাকে উদযাপন করার পরিণাম সম্পর্কে আমরা অবগত। ‘আধুনিকতা'র দোহাই দিয়ে তাঁরা যে দুর্বোধ্যতার দেয়াল রচনা করেছেন, তাতে কপাল ঠুকে তাঁরা নিজেরাই রক্তাক্ত হয়েছেন। এই রক্তপাত আত্মগত মানুষের মুক্তির পথনির্দেশে খুব বেশি অবদান রেখেছে বলে মনে হয় না । কিন্তু সমষ্টির স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশে তার ভূমিকা অন্বেষণে অবতীর্ণ হলে কেবল সীমাহীন হতাশার সঙ্গেই বন্ধুত্ব প্রগাঢ় হতে থাকে। কবিতার সঙ্গে পাঠকের দূরত্বের ডালপালা বিস্তারে ‘আধুনিকতা’জাত আত্মতৃপ্তির দান কতটুকু এ বিষয়ে কোনো নজির উপস্থিত না করেও বলা যায়, বাংলা কবিতার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বীকরণ না-করায় কবিতায় সাধারণের অধিকার অপহৃত হয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.