রবীন্দ্রনাথের গীত-বাণী : বেলা-অবেলার অভয় মন্ত্র
Abstract
রবীন্দ্রনাথের গানের বাণীতে ভর দিয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়া, সুরের আশ্রয়ে সীমাহীন শূন্যতায় উড়ে বেড়ানো কিংবা গীত-আশ্বাসে দুর্দিন-দুঃসময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আনন্দ যেমন অপার, তেমনি এই গীত-বাণীর সান্নিধ্য লাভের বেদনাও বিস্ময়করভাবে সীমাহীন। রবীন্দ্র-সংগীতের সমুদ্রে ডুব দিয়ে জীবনের যাবতীয় সঞ্চয় এবং তার সার্থকতা বিবেচনা করার বিপদ এই যে, এতে অনায়াসেই আমরা ব্যক্তিগত ভূখণ্ডের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠি এবং আমাদের অনধিকৃত বিশ্বের বিপুল আয়োজন থেকে বঞ্চিত থাকার দুঃখে আমরা ভারাক্রান্ত হই। রবীন্দ্রনাথ দুঃখকেও আনন্দের অধিক রমণীয় করে তুলেছেন, বলেছেন, ‘আমৃত্যু দুঃখের তপস্যা এ জীবন'। দুঃখকে ভালোবেসে বুকে ধারণ করার দুঃসাহস যাঁর আছে, তাকে তো রবীন্দ্রনাথের কাছে আসতেই হবে। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে বাণীবদ্ধ করেছেন তিনি, আর যা-কিছু তাঁর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে তার অমৃত-আস্বাদকেও তিনি আনন্দের সঙ্গেই শিল্পের অবয়ব দিয়েছেন । সাহিত্যের সকল পথেই তাঁর পায়ের চিহ্ন প্রবল এবং প্রাতিস্বিক। পাঠের ভেতর দিয়ে তিনি বাঙালির প্রাণের মানুষ সন্দেহ নেই, কিন্তু তাঁর গানের ভেতর দিয়ে রবীন্দ্র-বিশ্বের যে সৌরভ ও সমৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে, সেখানে তিনি তারও বেশি কিছু, আমাদের প্রাণাধিক শিল্পস্রষ্টা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2012 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.