আরবি সাহিত্যের যুগবিভাগ ও যুগধর্ম
Abstract
সাহিত্য হচ্ছে সমাজদর্পণ। সমাজের সংস্কৃতি, লোকাচার ও লোকমানসের প্রতিফলন ঘটে সমকালীন সাহিত্যিকদের সাহিত্যসম্ভারে। আবার যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজেরও পরিবর্তন ঘটে। তাই সাহিত্যে কালিক ঝোঁক ও যুগধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধেয় বিষয়। যুগবিবর্তনের সাথে সাথে সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি যেমন পরিবর্তিত হয় তেমনি বিষয়বস্তুতেও আমূল বৈচিত্র্য সাধিত হয়। কোনো ভাষার সাহিত্যের ইতিহাসচর্চার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যুগে যুগে নানা স্তরে ঐ ভাষা ও সাহিত্যের উত্থান-পতন, উন্নতি-অবনতি, গতিশীলতা ও স্থবিরতা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হওয়া এবং উক্ত সাহিত্যের প্রতিভাবান ব্যক্তিবর্গের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে সাহিত্যাঙ্গনে এর বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক প্রভাব নিরূপণ করা। সাহিত্যের গুণাগুণ বিচার, এর উন্মেষ-বিকাশের নেপথ্য কারণ চিহ্নিতকরণ এবং সাহিত্যসাধকের মানস ও রুচিবৈচিত্র্য অনুধাবনে 'সাহিত্যের ইতিহাস' জানার উপযোগিতা অনেক। প্রত্যেক যুগের খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের উপর সামসময়িক যুগপ্রবণতার ছাপ উপেক্ষা করা যায় না। তাছাড়া সাহিত্যকে কালিক ব্যবধানে শ্রেণিবিভাজন দ্বারা সাহিত্যের বিষয়-পরিধি সামান্যীকরণ ও সাহিত্য-পাঠ সহজীকরণের লক্ষ্য অর্জিত হয়। প্রতিটি জাতির সাহিত্যের ইতিহাস উক্ত জাতির রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বরং বলা যায়, একটি অপরটির শক্তিশালী প্রভাবক, অনুঘটক ও উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। অবশ্য সাহিত্যের উপর ভূখণ্ড ও অঞ্চলগত প্রভাবও উপেক্ষণীয় নয়। তবে সাহিত্যিক পট পরিবর্তনে রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতিই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে ইতিহাসবেত্তাগণ রাজনৈতিক যুগান্তরের উপর নির্ভরশীল হয়ে সাহিত্যের যুগবিভাজন করেছেন। আবার কোন কোন সাহিত্যবিশ্লেষক একই যুগের সাহিত্যকর্মের গতি-প্রকৃতির পরিবর্তন, প্রকাশভঙ্গির প্রাচুর্য ও সৃষ্টিবৈশিষ্ট্যের অনুপুঙ্খ বিচার-বিবেচনার লক্ষ্যে ঐ যুগকে নানা উপভাগে বিভক্ত করেছেন। সাহিত্যের যুগমানস ও যুগধর্মকে সামনে রেখে আমরা আরবি সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রথমত ছয়টি যুগে বিভাজন করে পরবর্তীকালে প্রায় প্রত্যেকটিকে আবার একাধিক উপভাগে ভাগ করার প্রয়াস পাব।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2012 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.