হুমায়ূনের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস : মানবিকতা ও সামগ্রিকতার শিল্পভাষ্য
Abstract
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জনের কারণে তাৎপর্যপূর্ণ তা নয়, বরং এটি একটি জনগোষ্ঠীর সত্তার আবিষ্কার এবং নির্মাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রাম পূর্ববাংলার বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতিসত্তার আকাঙ্ক্ষার যে অস্পষ্ট রূপাবয়ব তৈরি করেছিল, তা-ই ১৯৭১ সালে স্পষ্টতা পায়। নতুন পরিস্থিতিতে বাঙালির অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক- সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ একটি স্পষ্ট আদল বা রূপরেখায় ধরা পড়ে। বাঙালির মধ্যে জন্ম নেয় শোষণহীন, উদার-গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং একই সঙ্গে বিপ্লবের স্পন্দনে স্পন্দিত এক রাষ্ট্রের বাসনা। এই নতুন রাষ্ট্রের বাসনা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কতটা পূরণ হয়েছে সেটি ভিন্ন বিতর্ক, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে যে জনগণীয় বাসনা তৈরি হয়েছিল, এ-বিষয়ে সন্দেহ নেই। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের ব্যাপক অংশ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। তাদের মনে নতুন যুগের স্বাভাবিক আশা জেগেছিল। এই 'নতুন যুগের আশা' এবং নবতর রাষ্ট্রীয় বাসনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপরেখা যে-ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তার অনন্যতা অনস্বীকার্য। ফলে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কেবল ত্রিশ লক্ষ মানুষের আত্মদান, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতা, নারীর সম্ভ্রমহানির নির্মম আলেখ্য নয়, তারও অতিরিক্ত কিছু। এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য, আদর্শ, সমাগম, ব্যাপ্তি, গভীরতা, ধ্বংস, সৃজন — এসব কেবল মহাকাব্যের আয়োজনের সঙ্গেই তুলনীয়।
Downloads
Downloads