প্রান্তজনের অন্তঃকথন : প্রসঙ্গ জলদাসীর গল্প
Abstract
প্রান্তজনের' কথাকার হিসেবে হরিশংকর জলদাস (জ. ১৯৫৫) বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের পাঠকগোষ্ঠীর নিকট ক্রমশই একটি পরিচিত ও সমীহ আদায়কারী নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর পারিবারিক বৃত্তান্ত, বেড়ে ওঠার ইতিবৃত্ত এবং কথাসাহিত্যিক হিসেবে সৃষ্টিশীলতাকে শৈল্পিক মাত্রায় উন্নীতকরণ আদৌ কোনো খেয়াল বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং নিম্নবর্গের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জীবনকে সতর্ক অন্তর্দৃষ্টি থেকে অবলোকন করে স্বীয় সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের রূঢ় জীবনবাস্তবতাকে শিক্ষিত পাঠকের নিকট উপস্থাপনের আগ্রহেই ছোটগল্প লেখেন। বহুযুগ ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বী বর্ণবিভক্ত হিন্দু সমাজের তলদেশে শূদ্র হিসেবে নিগৃহীত হয়ে চলেছে সংখ্যাগুরু কায়িক শ্রমজীবী মানুষেরা। তাদের প্রতিনিধি হয়েও তিনি উক্ত সমাজশাসিত অনুশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকেননি। নিত্যদিনের যাপিত জীবনে আহৃত অভিজ্ঞতারাশির সঙ্গে সংবেদনশীল মানুষের আত্ম-আবিষ্কারের দুর্বার উদ্দীপনা তাঁকে প্রতিনিয়তই উদ্বুদ্ধ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচিত্র জীবনচর্যাকে ছোটগল্পের আধারে বিনির্মাণে। জেলে, মাঝি, জলশ্রমিক, মুচি, ভবঘুরে উন্মাদ, অসহায় যুবতী গৃহবধূ, পতিতা ও তার দালাল, শিশু-কিশোর, দরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণিচরিত্রের সমবায়ে প্রান্তজনের অকথিত জীবনাখ্যানকে কুশলী বয়ানে তিনি সিদ্ধহস্ত। নিজস্ব পরিমণ্ডলের অন্তর্গত চেনা মানুষদের সঙ্গে পরিচিতি ও সখ্য, তাদের সঙ্গে একাত্মভাবে মেশার সুযোগ, জীবনসংগ্রামের নিরন্তর স্পৃহাবশত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার আন্তর্গরজে পারিবারিক পেশাকে গ্রহণ সত্ত্বেও শিক্ষিত মানুষের আত্মসচেতনতাবশত সৃজনশীলতা প্রকাশের আকুতি – প্রভৃতির মিথস্ক্রিয়াই তাঁর লেখকসত্তার উদ্বোধক। স্বীয় সম্প্রদায়ের স্বরূপকে পাঠককুলের নিকট উপস্থাপনের আগ্রহই হরিশংকর জলদাসকে অনুপ্রাণিত করেছে উপর্যুক্ত গল্পসমূহ রচনায়, যার গ্রন্থরূপ জলদাসীর গল্প।
Downloads
Downloads