বাংলা পরোক্ষ কথনকৃতি বিশ্লেষণ
Abstract
প্রায়োগিক বিবেচনায় ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ কথনকৃতি (speech act)। অভিন্ন ভাষা ব্যবহার করেন এমন একদল মানুষের সংজ্ঞাপন পরিসীমায় একজন বক্তা যা বলেন এবং এক বা একাধিক শ্রোতা যা শোনেন, সেই বক্তব্য বোধগম্য হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কথনকৃতির রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। মানব সংজ্ঞাপনে কথনকৃতির এই অপরিহার্য প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে প্রয়োগবিজ্ঞানে (pragmatics) সুপ্রতিষ্ঠা লাভ করেছে কথনকৃতি তত্ত্ব। এই তত্ত্বের অন্যতম প্রান্ত হলো পরোক্ষ কথনকৃতি; যেখানে বক্তা এবং শ্রোতা পরস্পরের প্রতি এক ধরনের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আপাত-প্রত্যক্ষভাবে প্রকাশিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে আরও বেশি কিছু সংজ্ঞাপিত করতে সমর্থ হন। সারলে বিষয়টিকে যেভাবে দেখেছেন তার আলোকে বলা যায় যে, এ ক্ষেত্রে বক্তার কথনকৃতি সরাসরি সবকিছু বয়ান না করে পরোক্ষ কোনো কৌশল গ্রহণ করে যার মধ্য দিয়ে শ্রোতার কাছে সংজ্ঞাপিত হয় বক্তার অনির্বচনীয় অথচ অন্বিষ্ট বিবিধ তথ্যানুষঙ্গ। উদাহরণস্বরূপ অনুজ্ঞাবাচকতার প্রকাশে পরোক্ষ কথনকৃতির প্রয়োগকে বিবেচনা করা যেতে পারে । কোনো প্রশ্নবাক্য কিংবা বিবৃতি ব্যবহার করে যদি প্রকারান্তরে অনুজ্ঞাবাচকতার প্রকাশ ঘটানো হয় তাহলে বক্তার পরোক্ষ কথনকৃতি তাৎপর্যপূর্ণ অভিদ্যোতনা লাভ করে। বাংলা ভাষার আলোকে পরোক্ষ কথনকৃতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে এদের প্রয়োগবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য।
Downloads
Downloads