'আধুনিক' বাংলা কাব্যধারায় নজরুলের স্থান-বিচার
Abstract
ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার পর ঔপনিবেশিক বাস্তবতায় কলকাতায় বাংলা কবিতার যে নতুন ফলন দেখি, এ লেখায় তাকেই আমরা 'আধুনিক বাংলা কবিতা' বলব। বাংলা সমালোচনা সাহিত্যে এই অর্থে 'আধুনিক' শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার দেখি। তিরিশের কবিরা এবং পরবর্তী সমালোচকেরা তিরিশ-পরবর্তী কবিতার পরিচয়সূত্রে 'আধুনিক' শব্দটি অপরিবর্তিত অবস্থায় ব্যবহার করে যে গোলমাল পাকিয়েছেন, তাকে আমরা এখানে গ্রাহ্য করব না। প্রধানত ঔপনিবেশিক হীনম্মন্যতার কারণেই 'আধুনিক' শব্দটির প্রতি বাংলাভাষীদের প্রবল ভক্তিভাব দেখা যায়। পশ্চিমদেশীয় ভাব ও রূপকে 'আধুনিক' আখ্যা দিয়ে বাদবাকি অনেক কিছুকে 'অনাধুনিক' বা 'মধ্যযুগীয়' কোটায় ফেলতে পারলে চিন্তার যে সরল-একরৈখিক কাঠামো তৈরি হয়, তার আরামে আমাদের অধিকাংশ লেখককে সাহিত্যচর্চা করতে দেখি। এ লেখায় আমরা সারল্যের এই আরামকে প্রশ্রয় দেব না। সার্বিক মানব-‘প্রগতি'র নানা অংশে আধুনিক জমানার বিস্তর অবদান – যেমন, পশ্চিমা অর্থে জাতীয়তাবাদী চৈতনা, বা মার্কসীয় অর্থে সাম্যবাদী চেতনা – নিশ্চয়ই স্মরণীয়; কিন্তু ভুলে যাওয়ার উপায় নাই উপনিবেশবাদী, সাম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণ আর অসম ক্ষমতা-সম্পর্কের আরো দশ দিগন্ত এই আধুনিক জমানার 'আধুনিকতা'র প্রকল্পেরই অংশ ।
এই লেখায় আমরা অবশ্য এসব পরিভাষা বা সংজ্ঞার অর্থ বিশদায়িত করতে তৎপর হব না। আমরা মূলত কবি নজরুলকে ইতিহাসের পাটাতনের মধ্যে স্থাপন করে এই কবির তুল্যমূল্য পুনর্নির্মাণে সচেষ্ট থাকব। এক্ষেত্রে নন্দনতত্ত্বের রাজনীতি ও রাজনৈতিকতার ইতিহাসে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে; আর মনে রাখতে হবে, খোদ ইতিহাসই নিৰ্মাণ- পুনর্নির্মাণের এক অন্তহীন খেলা ।
Downloads
Downloads