পুরোনো বাংলাকাব্য : চিরশত্রুযুগলপ্রসঙ্গ
Abstract
বাঁচার তাগিদই মানুষের সব কর্মপ্রয়াসের ও আচরণের ভিত্তি ও উৎস। প্রতিবেশ ও পরিবেষ্টনীর বিভিন্ন জীব ও উদ্ভিদের সঙ্গে এজন্যই আমরা সখ্য ও শত্রুতাসম্পর্কে আবদ্ধ হই । মানুষে মানুষে সখ্য ও শত্রুতা একারণেই গড়ে ওঠে। বস্তুত সমস্বার্থেই মানবসমাজে ঐকমত্য, সহযোগিতা ও সহাবস্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। অসমস্বার্থে বিদ্বেষবিষ সঞ্চারিত হয় এবং দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত বাধে।বাস্তবিকপক্ষে স্বার্থঘটিত কারণেই আমরা সমাজে শত্রুসঙ্কুল অবস্থায় বসবাস করি । ‘শত্রু’-শব্দের নানা প্রতিশব্দ : অরাতি, অরি, বিপক্ষ, বৈরী, রিপু, শনি, গালিম, দুশমন প্রভৃতি । অভিধানে স্বরাজ্যের সন্নিকটবর্তী রাজ্যের রাজা, জ্যোতিষে লগ্ন থেকে ষষ্ঠস্থান এবং দেহস্থ কামক্রোধাদিও 'শত্রু'-রূপে চিহ্নিত। অন্তঃশত্রু, বহিঃশত্রু, সমাজের শত্রু ও দেশের শত্রুবিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। ধর্মদেশজাতবর্ণ ইত্যাদি নিয়েও থাকে নিরন্তর দ্বন্দ্ব ও কোন্দল। শত্রুসঙ্কটে (=শত্রুকৃত বিপদে) পূর্বাপর সচেতন বাঙালি জনমনে এসকল শব্দের নিত্য সমাদর : অরিজিৎ, অরিন্দম, পরন্তপ, শত্রুঘ্ন, শত্রুঞ্জয়, রিপুজয়ী প্রভৃতি।` পরশ্রীকাতর, হিংসাপরায়ণ ও কুচক্রী লোকদের কারণেও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের কেউই অজাতশত্রু কিংবা নিঃশত্রু থাকতে পারেন না। শাস্ত্রবাণী অনুসারে : পিতামাতাস্ত্রীপুত্রও, বিশেষ অবস্থায়, শত্রুরূপে বিবেচিত হয়।
সর্বোপরি 'চিরশত্রু' বলে একটি কথা আছে। 'চিরশত্রু' হচ্ছে : চিরকালের শত্রু, চিরবিদ্বেষী” “চিরশত্রু' প্রাণের দুশমনও বটে। নবীবৃন্দ ও অবতারগণেরও ‘প্রাণের দুশমন’ থাকে। “নুর ছিল দানিয়াল, ইব্রাহিমের ছিল নমরুদ, মুসার ছিল ফেরাউন, কৃষ্ণের ছিল কংস, দাউদের ছিল আনসারী, ঈসার ছিল তউসা এবং মুহম্মদের দুশমন ছিল আবু জেহেল ।” তবে আপৎকালীন স্বতন্ত্র পরিস্থিতিতে ও মুগ্ধ অবস্থায় চিরশত্রুযুগলসমূহও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মেনে নেয় ।পুরোনো বাংলাসাহিত্যেও, নানাপ্রসঙ্গে, কতিপয় চিরশত্রুযুগলের বিবরণ মেলে । আমরা এ প্রবন্ধে সে-সম্পর্কে আলোচনা করব।
Downloads
Downloads