শামসুর রাহমানের উপন্যাস : কবিস্বভাব ও কাব্যিকতা
Abstract
শামসুর রাহমানের (১৯২৯-২০০৬) কবি-পরিচয় অবিসংবাদিত; রয়েছে তাঁর বাংলাদেশের ‘প্রধান কবি’-র স্বীকৃতিও। কিন্তু দূর সমুদ্রে জেগে ওঠা নির্জন দ্বীপের মতো চারটি উপন্যাস - নিয়ত মন্তাজ (১৯৮৫), অদ্ভুত আঁধার এক (১৯৮৫), অক্টোপাস (১৯৮৩), এলো সে অবেলায় (১৯৯৬) তাঁর ঔপন্যাসিক পরিচয়টিকেও দ্যোতিত করে। কবিতা রচনার মধ্য প্রহরে একজন কবি যখন গদ্যের শরীরে জীবন ফুটিয়ে তোলায় প্রয়াসী হন, তখন কবিত্ব গদ্য-ভূবনে আশ্রয় খুঁজবে এটিই স্বাভাবিক। একই কবিমানস থেকে কবিতা ও উপন্যাসের উৎসারণ হেতু কবির উপন্যাসে 'কবিসুলভ সংবেদনশীলতা, কবিতার ব্যঞ্জনাশক্তি, আত্মগত ভাববাদ, বিশেষ করে আত্মজৈবনিকতা' প্রতিফলিত হওয়াই সংগত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসে বিশেষত প্রকরণ পরিচর্যায় কবিত্ব সংক্রমিত; জীবনানন্দ দাশের উপন্যাস তো তাঁর কবিতারই গদ্যভাষ্য, যদিও সে গদ্যও আবার কবিতালিপ্ত। শামসুর রাহমানের উপন্যাসসমূহে কবিতার মৌলধর্ম প্রবিষ্ট কি না, অথবা বিষয় ও বিষয়ীতে তাঁর কবি-প্রতিভার ছাপ কীভাবে পড়েছে তারই অনুসন্ধান বর্তমান প্রয়াস। অবশ্য উপন্যাস আলোচনার ফাঁক-ফোকরে শামসুর রাহমানের কবি-মনোভূমি ও কবিতা-বিশ্বে তাঁর পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিপ্রক্ষেপ ও বিবেচনার প্রয়োজন হবে আমাদের। বর্তমান নিবন্ধে উপন্যাসগুলো অনুপুঙ্খ পাঠের ভিত্তিতে আলোচিত হলেও রাহমানের কবিসত্তার আলোচনায় পূর্বজ ধারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
Downloads
Downloads